তর্কাতর্কিতে নৌকায় হামলা, তরুণ নদীতে নিখোঁজ

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার হালদা নদীতে একটি ওরসের মেলা থেকে ফেরার পথে নৌকায় থাকা এক তরুণ নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো খোঁজ মেলেনি, তবে নদী থেকে তার জ্যাকেট ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনা ঘটে গত শনিবার রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে, হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাস মুন্সির হাট এলাকায়। নিখোঁজ তরুণের নাম মোহাম্মদ সাব্বির (১৯)। তিনি রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মইশকরম গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই রাতে রামদাস মুন্সির হাটে অনুষ্ঠিত মাজারের ওরসে দুই দলের যুবকের মধ্যে কথাকাটাকাটির কারণে বিরোধ শুরু হয়। বিরোধের জের ধরে মধ্যরাতে রাউজানের বাড়ি ফেরার পথে এক পক্ষ নৌকায় থাকা অন্য দলকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

নৌকায় থাকা কয়েকজন যুবক নদীর পানিতে পড়ে যান। দুই জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও সাব্বির নিখোঁজ হন। উপস্থিত লোকজন জানিয়েছেন, হামলাকারীরা সাব্বিরের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের ডুবুরি দল তাকে এখনো খুঁজে পাননি।

প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ারুল আজিম জানিয়েছেন, রাউজান থেকে হাটহাজারীর মেলায় আসা সাব্বির ও তার সাথীরা নৌকায় ফিরছিলেন, তখনই হামলা চালানো হয়। নদীর জেলেপাড়ায় ভাসমান অবস্থায় তার মোবাইল ও জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়।

হালদা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রমজান আলী প্রথম আলোকে বলেন, “নৌকায় উঠে বসার পর কিছু যুবক নৌকাটি টেনে ধরেন এবং বাকি কয়েকজন লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। তখন কয়েকজন নদীতে লাফ দেন। এই দৃশ্য নদীর ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।”

ঘটনার পরে পরিবারের সদস্যরা হালদা নদীর পাড়ে অবস্থান নিয়েছেন এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালাচ্ছেন।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য

তথ্যসূচকবিবরণ
ঘটনা স্থলরামদাস মুন্সির হাট, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম
নিখোঁজ তরুণমোহাম্মদ সাব্বির (১৯)
বাড়ি ঠিকানাউরকিরচর ইউনিয়ন, মইশকরম গ্রাম, রাউজান
পরিবারের সদস্যআব্দুল মান্নান (পিতা)
সময়শনিবার রাত ১টা থেকে ২টা
উদ্ধারকৃত জিনিসপত্রজ্যাকেট, মোবাইল
তদন্তকারী সংস্থাহালদা নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি দল
মূল কারণকথাকাটাকাটির জের ধরে নৌকায় হামলা

এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যবস্থা চাইছেন। তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং authorities হামলাকারীদের সনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছেন।