ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনির হোসেন সিকদার (৬০) নামে এক কারাবন্দী হাজতির মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে কারা কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা যায়, অসুস্থ অবস্থায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অবশেষে শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি; প্রয়োজন হলে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে কারণ নির্ধারণ করা হবে।
মৃত মনির হোসেন সিকদার নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম হাজী জহুরুল ইসলাম সিকদার। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে কারাবন্দী অবস্থায় তার চিকিৎসা কতটা নিয়মিত ও যথাযথভাবে হয়েছে—এ বিষয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কারা সূত্রে জানা গেলেও, তিনি কোন মামলায় বন্দী ছিলেন বা কতদিন ধরে কারাগারে ছিলেন—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের কারাগারগুলোতে বন্দীদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দীদের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধ সরবরাহ, এবং গুরুতর অসুস্থদের দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা সেই ব্যবস্থাপনার ঘাটতি সামনে এনে দেয়।
নিচে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মৃতের নাম | মনির হোসেন সিকদার |
| বয়স | ৬০ বছর |
| মৃত্যু সময় | শুক্রবার রাত ১১:০৫ মিনিট |
| ভর্তি তারিখ | ৭ ফেব্রুয়ারি |
| হাসপাতাল | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| স্থায়ী ঠিকানা | গোপালদী, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ |
| মরদেহের অবস্থা | হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত |
এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মহলে স্বচ্ছ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে কারাবন্দীদের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
