ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকার ক্ষুদ্র ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের ওপর নিপীড়ন, চাঁদাবাজি এবং উদ্দেশ্যমূলক উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে এক লিখিত আবেদনে বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে গঠিত ‘চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট’ ভাঙার জোর দাবি জানানো হয়েছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি, ২০২৬) সংগঠনের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন স্বাক্ষরিত এই আবেদনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার চরমপত্র দেওয়া হয়।
Table of Contents
সিন্ডিকেট ও হয়রানির স্বরূপ
ছাত্রদলের অভিযোগ অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসের বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচনের পর থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন মোড়ে গড়ে ওঠা দোকানগুলোকে লক্ষ্য করে একটি অশুভ চক্র সক্রিয় হয়েছে। এই চক্রটি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাশোহারা দাবি করে। যেসব ব্যবসায়ী এই অনৈতিক সিন্ডিকেটের অন্তর্ভুক্ত হতে অস্বীকার করছেন, তাঁদের দোকানপাট ভাঙচুর ও উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ছাত্রদলের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মূল হোতা বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধিরা, যাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের উপার্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করছেন।
ছাত্রদলের অভিযোগ ও আল্টিমেটামের মূল পয়েন্টসমূহ:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য ও দাবি |
| মূল অভিযুক্ত | বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধি ও প্রশাসনের অসাধু কর্মচারী। |
| অভিযোগের ধরণ | ভাসমান দোকানে চাঁদাবাজি, মালামাল ভাঙচুর ও বেআইনি উচ্ছেদ। |
| অপপ্রচারের অভিযোগ | পুরনো ভিডিও কাটছাঁট করে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার। |
| প্রশাসনিক দাবি | দোকান পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়ন ও তা প্রচার করা। |
| চরমপত্র (Deadline) | ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ। |
| হুঁশিয়ারি | দাবি পূরণ না হলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা। |
অপপ্রচার ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, চাঁদাবাজির তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে অভিযুক্তরা বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর মিথ্যা অপবাদ চাপাচ্ছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেড় মাস আগের একটি ভিডিওর খণ্ডিতাংশ প্রচার করে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে সংগঠনটি দাবি করে। ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে তাঁদের কোনো নেতাকর্মী এমন কোনো বিতর্কিত কাজে লিপ্ত হননি এবং এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে ক্যাম্পাসে ‘মব’ বা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা রুখে দেওয়া হবে।
প্রশাসনের প্রতি ছাত্রদলের কঠোর অবস্থান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দুটি প্রধান দাবি পেশ করেছে। প্রথমত, ক্যাম্পাসে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দোকান পরিচালনার জন্য একটি স্বচ্ছ এবং সুস্পষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করতে হবে যাতে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার না হন। দ্বিতীয়ত, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের সাথে জড়িত ডাকসু প্রতিনিধি ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, আজ রাত ৮টার মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাঁরা কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।
উপসংহার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষায় ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরণের চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা বন্ধ হওয়া জরুরি। ছাত্রদলের এই কঠোর অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে এই অভিযোগগুলো তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না।
