ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি (টিএফপি) বিভাগ তাদের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভাকে পুরস্কৃত করেছে। ‘২য় টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’ শিরোনামের এই অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং সংবাদ প্রতিবেদনে অসামান্য দক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় মোট ১৯ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপট ও নির্বাচন প্রক্রিয়া
চলতি বছরে এই প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। চলচ্চিত্র ও সংবাদ প্রতিবেদন মিলিয়ে মোট ১২৯টি সৃজনশীল কাজ জমা পড়েছিল। জমা পড়া এই বিপুল সংখ্যক কাজ পর্যালোচনার জন্য গঠন করা হয়েছিল একটি শক্তিশালী জুরিবোর্ড। দেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক, অভিজ্ঞ চিত্রগ্রাহক, চলচ্চিত্র সমালোচক, চিত্রনাট্যকার এবং প্রবীণ সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত এই বোর্ড অত্যন্ত নিরপেক্ষতার সাথে মান যাচাই করে। ১৯টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রাথমিকভাবে ৪১টি কাজকে মনোনীত করা হয় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯ জন শ্রেষ্ঠ সৃজনশীল শিক্ষার্থীকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
পুরস্কার ও প্রতিযোগিতার সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| আয়োজক বিভাগ | টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি (টিএফপি) |
| অনুষ্ঠানের নাম | ২য় টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫ |
| মোট জমা পড়া কাজ | ১২৯টি (চলচ্চিত্র ও সংবাদ প্রতিবেদন) |
| প্রাথমিক মনোনয়ন | ৪১টি কাজ (১৯টি ক্যাটাগরিতে) |
| চূড়ান্ত বিজয়ী | ১৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থী |
| প্রদর্শিত চলচ্চিত্র | ২৬টি নির্বাচিত চলচ্চিত্র |
দিনব্যাপী আয়োজন ও প্রদর্শনী
পুরস্কার বিতরণের আগে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের নির্মিত ২৬টি নির্বাচিত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী। মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের শৈল্পিক কাজগুলো দেখার সুযোগ পান, যা নতুন নির্মাতাদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
অতিথিদের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বিভাগের অভাবনীয় সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, “প্রতিষ্ঠার মাত্র ১৪ বছরে টিএফপি বিভাগ অ্যাকাডেমিক শিক্ষা এবং প্র্যাকটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীল ধারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করবে।”
অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং বিভাগের চেয়ারম্যান সাইয়্যিদ শাহজাদা আল কারীম তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। পর্যাপ্ত বাজেট ও অবকাঠামোগত সুবিধা পেলে এই বিভাগটি বিশ্বমানের সৃজনশীল শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের অন্যতম সৃজনশীল কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।”
বিভাগীয় এই আয়োজন কেবল শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র ও সংবাদ মাধ্যমকে আরও সমৃদ্ধ করার একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ। বিজয়ীদের এই অর্জন আগামী দিনের শিক্ষার্থীদের আরও ভালো কাজ উপহার দিতে উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
