ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পূর্বনির্ধারিত কেন্দ্রীয় জনসভা বাতিল করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সিদ্ধান্তে এ সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। পরিবর্তে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পর্যালোচনা করে দলীয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নির্বাচনী বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ওই দিন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক নির্বাচনী এলাকায় সরাসরি উপস্থিত থেকে জনসভা ও পথসভায় অংশ নেবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে তৃণমূল ভোটারদের কাছে সরাসরি বার্তা পৌঁছে দেওয়া, স্থানীয় প্রার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং ভোটব্যাংক সুসংহত করাই এ কৌশলগত পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য। বিএনপি মনে করছে, রাজধানীতে বৃহৎ সমাবেশ আয়োজনের চেয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ধারাবাহিক জনসংযোগ কার্যক্রম অধিক কার্যকর হতে পারে।
এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় বিশাল জনসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতিও লক্ষ্য করা যায়। তবে নির্বাচনী সমীকরণ ও ভৌগোলিক ভারসাম্য বিবেচনায় দলটি কৌশল বদল করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজধানীর বাইরে শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি স্থানীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে বাড়তি প্রভাব ফেলতে পারে।
বিএনপির ঘোষিত সংশোধিত কর্মসূচির সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলোঃ
| তারিখ | পূর্বঘোষিত কর্মসূচি | সংশোধিত কর্মসূচি | লক্ষ্য অঞ্চল |
|---|---|---|---|
| ৮ ফেব্রুয়ারি | ঢাকায় কেন্দ্রীয় জনসভা | জেলা পর্যায়ে একাধিক জনসভা ও পথসভা | উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল |
| চলমান | কেন্দ্রীয় প্রচারণা | তৃণমূলভিত্তিক প্রচার জোরদার | সারাদেশ |
রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, “কেন্দ্রীয় সমাবেশ স্থগিত করা হলেও নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো শৈথিল্য আসবে না। বরং স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন।” তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দলের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ছে এবং সেই সমর্থনকে ভোটে রূপান্তর করতেই এই মাঠমুখী কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ায় বিএনপি সেখানে শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, ক্ষুদ্র সমাবেশ ও ঘন ঘন সফর নির্বাচনী ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনী ডামাডোলের এ সময়ে বিএনপির কর্মসূচি পুনর্বিন্যাসকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনীতির বদলে জেলা-উপজেলাভিত্তিক প্রচারণা জোরদার করার এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়।
