ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু

রাজধানী ঢাকার পুরনো অংশের সূত্রাপুরে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তদের অতর্কিত ও এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী তারিক সাঈদ মামুন। আজ সোমবার (১০ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। জনাকীর্ণ এলাকায় এমন সহিংসতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১১টার দিকে যখন রাস্তাঘাটে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে জনসমাগমস্থলে উপস্থিত হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করে।

হামলাকারীরা তাদের মিশন শেষ করে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এসময় তারিক সাঈদ মামুন গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার ওপর লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে হাসপাতালের কর্মীরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত, সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনদের আহাজারি ও মরদেহের বর্তমান অবস্থা

মামুনের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে তার খালাতো ভাই মো. হাফিজ দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জানান যে, মামুন অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। হাফিজের দাবি অনুযায়ী, মামুন কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না এবং তার কোনো প্রকাশ্য শত্রু ছিল বলে তাদের জানা নেই।

হাফিজ গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার ভাই একজন নিরীহ মানুষ ছিলেন। কেন বা কারা তাকে এভাবে টার্গেট করে হত্যা করল, তা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।” বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।


ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ

নিচে উক্ত অপ্রীতিকর ঘটনার মূল তথ্যগুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
নিহতের নামতারিক সাঈদ মামুন
বয়স৪৫ বছর
ঘটনার তারিখ ও সময়১০ নভেম্বর, সোমবার; সকাল ১১:০০ টা
ঘটনাস্থলঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সামনে, সূত্রাপুর
হামলার ধরনআগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি
রাজনৈতিক পরিচয়কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ততা নেই (পারিবারিক দাবি)
বর্তমান অবস্থাঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মরদেহ সংরক্ষিত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ

ঘটনার পরপরই সূত্রাপুর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ সেখান থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং আশেপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি পূর্বপরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড নাকি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে চালানো হামলা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তবে দিনের আলোতে ব্যস্ততম একটি হাসপাতালের সামনে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলার এই অবনতি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।