ঢাকায় একই রাতে দুই অগ্নিকাণ্ড: মগবাজার ও তেজগাঁওয়ে

রাজধানী ঢাকায় বৃহস্পতিবার রাতে দুটি পৃথক স্থানে আগুন লাগার ঘটনা নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একটি আগুন লাগে অভিজাত আবাসিক এলাকা মগবাজারের দিলু রোডের একটি বহুতল ভবনে, আরেকটি ছড়িয়ে পড়ে তেজগাঁও রেললাইনের পাশের ঘনবসতিপূর্ণ ঝুপড়ি এলাকায়। যদিও সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবুও এই দুই অগ্নিকাণ্ড নগরবাসীর অজান্তেই লুকিয়ে থাকা ঝুঁকির কথা স্পষ্ট করে দেয়।

রাত সোয়া ৯টার দিকে মগবাজারের আটতলা ভবনের একটি কক্ষে হঠাৎ ধোঁয়া দেখা যায়। ভবনের বাসিন্দারা প্রথমে নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন, কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে। কর্তব্যরত কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। তিনি আরও বলেন, “সৌভাগ্য যে আগুনটি কক্ষে সীমাবদ্ধ ছিল। বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত।”

এর কিছুক্ষণ আগে রাত পৌনে নয়টার দিকে তেজগাঁও রেললাইন সংলগ্ন ঝুপড়িতে আগুন লাগে। জায়গাটি ঘিঞ্জি ও দাহ্য বসতিতে পরিপূর্ণ হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল ঠিক তখনই আগুনের শব্দ ও আলোর ঝলকানিতে তারা আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কয়েকটি ঝুপড়ি পুড়ে গেলেও মানুষজন নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ায় বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর অনেক এলাকায় বিশেষ করে পুরোনো ভবন এবং ঝুপড়ি বসতিতে বৈদ্যুতিক তারের জট, নিম্নমানের সংযোগ এবং অগ্নিনিরাপত্তাহীনতার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি চরম। এ ধরনের ঘটনা শুধু সম্পদহানি নয়, মানুষের জীবননাশেরও সম্ভাবনা তৈরি করে। ফায়ার সার্ভিস শহরবাসীকে নিয়মিতভাবে বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা, অগ্নিনির্বাপণের সরঞ্জাম রাখা এবং দ্রুত উদ্ধারপদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।