বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী জনতার জন্য ডিসেম্বরের শুরুটা হতে যাচ্ছে রোমাঞ্চে ভরপুর। ব্রাজিল–আর্জেন্টিনার উত্তেজনা আমাদের ফুটবল সংস্কৃতির চিরচেনা অংশ। বিশ্বকাপ এলে তো কথাই নেই—গলিপথ, ক্যাম্পাস, চায়ের দোকান—সব জায়গায় তর্ক–বিতর্ক, উন্মাদনা আর লাতিন ফুটবলের জাদু। সেই আবেগ এবার বাস্তবে ছুঁয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়, কারণ বাংলাদেশে আসছেন দুই মহাতারকা—ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডান–ডিফেন্ডার কাফু এবং আর্জেন্টিনার দুর্ধর্ষ ফরোয়ার্ড ক্লদিও ক্যানিজিয়া।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান এ এফ বক্সিং প্রমোশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ডি আসাদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন, ১১ ডিসেম্বর সকালেই একই ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন এই দুই লাতিন মহাতারকা। এরপর ১৩ ডিসেম্বর তাঁরা ঢাকার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে একসঙ্গে দেশ ত্যাগ করবেন।
লাতিন–বাংলা সুপার কাপ ঘিরে দু’জনের ঢাকা সফর
ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ থেকে শুরু হচ্ছে লাতিন–বাংলা সুপার কাপ, আর এই আয়োজনকে আন্তর্জাতিকভাবে দৃশ্যমান করতে ও তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করতেই আয়োজনকারীরা এনেছেন দুই কিংবদন্তিকে।
টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে রেড গ্রিন ফিউচার স্টার। দলটিতে রয়েছে সাম্প্রতিক এএফসি অনূর্ধ্ব–১৭ বাছাইপর্বে অংশ নেওয়া প্রতিভাবান ১৯ ফুটবলার। তাদের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দুই শক্তিশালী অনূর্ধ্ব–২০ দল।
৫ ডিসেম্বর: রেড গ্রিন ফিউচার স্টার বনাম ব্রাজিলের সাও বার্নার্দো ক্লাব ইউ–২০
৮ ডিসেম্বর: রেড গ্রিন ফিউচার স্টার বনাম আর্জেন্টিনার আতলেতিকো চার্লোন ইউ–২০
১১ ডিসেম্বর: ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা—লাতিন রোমাঞ্চের মহারণ
বাংলাদেশি ভক্তদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ: নৈশভোজ
সবচেয়ে বড় চমক—আয়োজকেরা জানিয়েছেন, কাফু ও ক্যানিজিয়ার সঙ্গে একটি বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হবে। যেখানে সীমিতসংখ্যক ভক্ত, স্পনসর ও আমন্ত্রিত অতিথিরা কিংবদন্তিদের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের সুযোগ পাবেন। তাদের ফুটবল–জীবনের অজানা গল্প, বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ, আধুনিক ফুটবলের বিশ্লেষণ—সবকিছু কাছ থেকে দেখার ও শোনার অভিজ্ঞতা হবে ভক্তদের জন্য দারুণ প্রাপ্তি।
ফুটবল সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা
বাংলাদেশে বিশ্ব তারকাদের আগমন নতুন নয়। তবে কাফু–ক্যানিজিয়ার মতো দুই ভিন্ন দেশের দুই কিংবদন্তিকে একসঙ্গে আনা নিঃসন্দেহে বড় ঘটনা। এর মাধ্যমে তরুণ ফুটবলাররা যেমন উপকৃত হবে, তেমনি দর্শকদের জন্যও এটি ফুটবল–সংস্কৃতি শক্তিশালী করার সুযোগ।
বাংলাদেশের ফুটবল প্রশাসন, বেসরকারি আয়োজক প্রতিষ্ঠান এবং কর্পোরেট ব্র্যান্ডগুলো যদি এমন উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় টুর্নামেন্ট, বড় তারকার আগমন এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ডিসেম্বর তাই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য শুধু একটি উৎসব নয়, বরং এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে চলেছে।
