ডোলার বৈশাখী স্মৃতিচারণ

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ডোলা রহমান সম্প্রতি পবিত্র ঈদ উপলক্ষে একাধিক গান পরিবেশনের ব্যস্ততার মাঝেও পহেলা বৈশাখ নিয়ে তাঁর শৈশবের স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার কথা গভীর আবেগে স্মরণ করেছেন। তাঁর মতে, বৈশাখ শুধু একটি উৎসব নয়; এটি পারিবারিক বন্ধন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সংগীতচর্চার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা তাঁকে শৈশব থেকেই গড়ে তুলেছে।

ডোলা রহমান জানান, তাঁর শৈশব কেটেছে এক যৌথ পরিবারে, যেখানে আত্মীয়স্বজনদের মিলনমেলায় বৈশাখ উদযাপন হতো ঘরোয়া পরিবেশে। সেদিনগুলোতে ঘরের ভেতর গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি এবং নানা ধরনের খেলাধুলার মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করা হতো। বিকেলে পরিবারের সবাই মিলে স্থানীয় মেলায় যাওয়া ছিল একটি অপরিহার্য অংশ, যা উৎসবের আনন্দকে বহু গুণ বাড়িয়ে দিত। তাঁর ভাষায়, সেই দিনগুলোর হাসি-আনন্দ আজও স্মৃতিতে গভীরভাবে গেঁথে আছে।

শৈশব থেকেই পরিবার তাঁকে গান গাওয়ার জন্য উৎসাহ দিত। প্রায়ই শোনা যেত, “ডোলা, এবার গান শুরু করো।” এই উৎসাহ তাঁর সংগীতজীবনের ভিত্তি তৈরি করেছে। একইভাবে তাঁর ভাই আদিতও সংগীতের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। মায়ের সংগীতপ্রেম তাঁকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে; বাংলার প্রাচীন ও আধুনিক গান শোনার মধ্য দিয়ে তাঁর সংগীতভাণ্ডার ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ হয়েছে।

বর্তমান ব্যস্ত জীবনের কারণে আগের মতো সব বৈশাখী আচার-অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নেওয়া সম্ভব হয় না বলে তিনি জানান। তবে সুযোগ পেলে তিনি এখনও বৈশাখী অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন, যেখানে ভিন্নধর্মী এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। দর্শক-শ্রোতারা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে গান উপভোগ করেন, যা তাঁর কাছে অত্যন্ত আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা।

ডোলা রহমান আরও বলেন, বৈশাখের মঞ্চে তিনি প্রায়ই লোকসংগীত এবং জনপ্রিয় বাংলা গান পরিবেশন করেন, যা শ্রোতাদের সঙ্গে সহজ ও আন্তরিক সংযোগ তৈরি করে। তাঁর পরিবেশিত গানগুলো উৎসবের আবহে বিশেষভাবে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং শ্রোতাদের মধ্যে নস্টালজিক অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

শৈশব ও বর্তমান বৈশাখ উদযাপনের পার্থক্যও তিনি তুলে ধরেন। আগে সকালে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে পান্তা-ইলিশ, চিড়া, দই ও মিষ্টি খাওয়ার পর মেলায় ঘোরা ছিল দিনের প্রধান আকর্ষণ। এখন ব্যস্ততার কারণে সেই ধারাবাহিকতা পুরোপুরি বজায় রাখা না গেলেও স্মৃতিগুলো তিনি গভীরভাবে লালন করেন। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে কাটানো সেই সময়গুলো তাঁর কাছে আজও অমূল্য।

মিষ্টির প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোবাসার কথাও তিনি অকপটে জানান। তাঁর মতে, পহেলা বৈশাখের সকাল পোড়াবাড়ীর চমচম ছাড়া অসম্পূর্ণ মনে হয়। রসগোল্লার প্রতিও তাঁর রয়েছে গভীর আকর্ষণ, যা উৎসবের আনন্দকে আরও মধুর করে তোলে।

নিচে তাঁর শৈশব ও বর্তমান বৈশাখ উদযাপনের অভিজ্ঞতার একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়শৈশবের বৈশাখবর্তমান অভিজ্ঞতা
উদযাপনযৌথ পরিবারে ঘরোয়া আনন্দ, গান ও খেলাধুলাব্যস্ততার কারণে সীমিত অংশগ্রহণ
খাদ্যাভ্যাসপান্তা-ইলিশ, চিড়া, দই, মিষ্টিসুযোগ পেলে ঐতিহ্যবাহী খাবার গ্রহণ
বিনোদনমেলায় ঘোরা ও পারিবারিক আড্ডামঞ্চে সংগীত পরিবেশন
সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণপারিবারিকভাবে সংগীত ও সাংস্কৃতিক চর্চাপেশাগতভাবে সংগীত পরিবেশন
অনুভূতিসরল ও উৎসবমুখর আনন্দস্মৃতিনির্ভর আবেগ ও নস্টালজিয়া

ডোলা রহমানের কাছে পহেলা বৈশাখ কেবল একটি উৎসব নয়, বরং জীবন্ত স্মৃতি, পারিবারিক বন্ধন এবং সংগীতের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এক সাংস্কৃতিক অনুভূতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে ব্যস্ততার মাঝেও এই ঐতিহ্য ও আনন্দের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ তিনি পাবেন, যা তাঁর জীবনের স্মৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।