ডেলসি রদ্রিগেজ শপথ নিলেন, ভেনেজুয়েলার নতুন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর হাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বন্দি হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার নতুন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তেল মন্ত্রী ডেলসি রদ্রিগেজ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানী কারাকাসে ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে অনুষ্ঠিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

শপথ গ্রহণের সময় রদ্রিগেজ তার রাজনৈতিক গুরু ও সাবেক সমাজতান্ত্রিক নেতা হুগো শ্যাভেজকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন,
“আমি কমান্ডার হুগো শ্যাভেজের নামে শপথ নিচ্ছি।”

মার্কিন অভিযানের প্রেক্ষাপট

গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে কারাকাসে মার্কিন কমান্ডোদের এক আকস্মিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। মাদুরো দম্পতিকে সরাসরি নিউইয়র্কে নেয়া হয়, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

রদ্রিগেজ এই ঘটনার পর গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,
“আমাদের জাতীয় বীরদের উত্তর আমেরিকায় জিম্মি রাখা হয়েছে, সেই ব্যথাতুর হৃদয় নিয়েই আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করছি।”

ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টও দ্রুত নির্দেশ দেয় যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজকে অবিলম্বে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে সাময়িকভাবে ভেনেজুয়েলার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে। প্রয়োজন হলে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েনের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

রদ্রিগেজ শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর অবস্থান দেখালেও পরে জানিয়েছিলেন যে তেলের সম্পদ ও দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সহযোগিতা’ করতে প্রস্তুত।

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিষয়তথ্য
বর্তমান প্রেসিডেন্টডেলসি রদ্রিগেজ (অন্তর্বর্তীকালীন)
স্থায়ী প্রেসিডেন্টনিকোলাস মাদুরো (যুক্তরাষ্ট্রে আটক)
ভাইস প্রেসিডেন্টডেলসি রদ্রিগেজ
ফার্স্ট লেডিসিলিয়া ফ্লোরেস (যুক্তরাষ্ট্রে আটক)
মূল অভিযোগমাদক ও অস্ত্র চোরাচালান
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াযুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ দাবি, সাউথ আমেরিকার উদ্বেগ বৃদ্ধি
প্রধান অর্থনৈতিক সম্পদতেল রপ্তানি (বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম রিজার্ভ)

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য রদ্রিগেজকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশেষত তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে তার নীতি ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকট দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে তেল-সমৃদ্ধ দেশটিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে নতুন মোড়ে নিয়ে যেতে পারে।