বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থায় আধুনিকায়নের ছোঁয়া লেগেছে, যার সুফল এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও পৌঁছে গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি করদাতা সরাসরি বিদেশ থেকেই অনলাইনে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। প্রতিদিন গড়ে ১০০ জন নতুন প্রবাসী করদাতা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এই ডিজিটাল পদ্ধতি প্রবাসীদের জন্য কর প্রদানের প্রক্রিয়াকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অংশগ্রহণকেও আরও বেগবান করেছে।
Table of Contents
ই-রিটার্ন নিবন্ধনের বর্তমান পরিস্থিতি
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের মধ্যে ই-রিটার্ন ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি তাদের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানো ওটিপি (OTP) ব্যবহার করে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। যদিও প্রবাসীদের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়া ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে, তবুও আইনি ঝামেলামুক্ত থাকতে এবং দেশের সম্পদে অবদান রাখতে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছেন।
নিচে ই-রিটার্ন সিস্টেমের সামগ্রিক অগ্রগতির একটি সারণি দেওয়া হলো:
| সূচকসমূহ | পরিসংখ্যান (জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত) |
| মোট ই-রিটার্ন নিবন্ধন | ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার জন |
| সফলভাবে রিটার্ন দাখিল | ৩১ লাখ ৮৮ হাজার জন |
| বিদেশ থেকে রিটার্ন দাখিলকারী | ৩ হাজার ৩০০ জন |
| প্রবাসীদের দৈনিক গড় রিটার্ন | ১০০ জন (প্রায়) |
| দাখিলের শেষ সময়সীমা | ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ |
প্রবাসীরা যেভাবে রিটার্ন দাখিল করবেন
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে খুব সহজেই নিবন্ধন করতে পারছেন। আবেদনকারীকে তার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো ereturn@etaxnbr.gov.bd এই ঠিকানায় ই-মেইল করতে হয়। এনবিআর কর্তৃপক্ষ তথ্য যাচাই করে ফিরতি ই-মেইলে একটি ওটিপি ও নিবন্ধনের লিংক পাঠায়, যা ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে করদাতা তার ব্যক্তিগত ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করতে পারেন।
অনলাইন রিটার্ন দাখিলের প্রধান বৈশিষ্ট্য
১. কাগজপত্রহীন প্রক্রিয়া: অনলাইনে রিটার্ন জমার সময় কোনো দলিলাদি আপলোড করার প্রয়োজন হয় না, শুধু সঠিক তথ্য ইনপুট দিলেই চলে। তবে প্রমাণের জন্য মূল কাগজগুলো নিজের কাছে সংরক্ষণ করা জরুরি।
২. তাৎক্ষণিক প্রাপ্তি স্বীকার: রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ডিজিটাল একনলেজমেন্ট স্লিপ বা প্রাপ্তি রসিদ তৈরি হয়।
৩. অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে: করদাতারা তাদের সুবিধামতো ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ) ব্যবহার করে মুহূর্তেই কর পরিশোধ করতে পারেন।
কর রেয়াত ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র
বিনিিয়োগের বিপরীতে কর ছাড় বা রেয়াত পেতে চাইলে করদাতাদের জীবন বিমার প্রিমিয়াম রসিদ, ডিপিএস (DPS) সনদ, সঞ্চয়পত্র বা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের তথ্যগুলো নিখুঁতভাবে পূরণ করতে হয়। এছাড়া বেতন খাতের আয়ের প্রমাণপত্র বা ব্যাংক স্টেটমেন্টের তথ্যগুলোও রিটার্ন ফর্মে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
সরকার রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করায় করদাতারা এখন হাতে যথেষ্ট সময় পাচ্ছেন। যথাযথ কর প্রদানের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে থেকেও দেশের সমৃদ্ধিতে সরাসরি অংশীদার হচ্ছেন।
