ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ অপসারিত

সরকার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে অপসারণ করেছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আক্তার জাহান। এই পরিবর্তন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে যুগ্মসচিব মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষর করেছেন।

প্রজ্ঞাপনের আলোকে, সুরাইয়া আক্তার জাহান তার বর্তমান পদের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ডিএনসিসি মেয়রের ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। তবে অর্থনৈতিক সুবিধার ক্ষেত্রে তিনি শুধুমাত্র নিয়মিত ‘দায়িত্ব ভাতা’ পাবেন, যা প্রশাসনিক নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মোহাম্মদ এজাজ ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হন। তবে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তার ওপর দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। দেশের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে উচ্চ পদে থাকা কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকার জন্য যোগ্য নন বলে গণ্য হয়। এ কারণেই তার অপসারণ কার্যকর করা হলো।

উল্লেখ্য, এ ধরনের পদ পরিবর্তন সাধারণত স্থানীয় সরকারের স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ডিএনসিসি দেখভালের পদক্ষেপ প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

পদ ও কর্মকর্তাদায়িত্বকাল/নিয়োগমূল কারণ / মন্তব্য
মোহাম্মদ এজাজ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ – ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬আদালতের দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞার কারণে অপসারিত
সুরাইয়া আক্তার জাহান৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – বর্তমানঅতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত, দায়িত্ব ভাতা অনুমোদিত

ডিএনসিসি প্রশাসকের পদে এই পরিবর্তন নতুন করে প্রশাসনিক কর্মকৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্র তৈরি করবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, আগামী কয়েক সপ্তাহে নগরীর বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ও প্রকল্প পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য সুরাইয়া আক্তার জাহান সরাসরি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এই পদক্ষেপ স্থানীয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, দুর্নীতি দমন এবং নগরবাসীর জন্য আরও কার্যকর সেবা প্রদানে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।