ডাচদের জয়ে পাকিস্তানকে টপকালো নেদারল্যান্ডস

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপে জমে উঠেছে পয়েন্ট ও রান রেটের লড়াই। প্রথম ম্যাচে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েও পাকিস্তানের কাছে মাত্র ৩ বল বাকি থাকতে ৩ উইকেটে হেরে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। সেই আক্ষেপকে শক্তিতে রূপান্তর করেই দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াল ডাচরা। দিল্লিতে নামিবিয়াকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে তারা তুলে নিয়েছে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয়—আর এই জয়ের সুবাদেই রান রেটে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে নেদারল্যান্ডস।

টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নামিবিয়া নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে তোলে ১৫৬ রান। শুরুটা মোটামুটি হলেও বড় ইনিংসের অভাবে তাদের স্কোর মাঝারি মানেই আটকে যায়। তিন নম্বরে নামা নিকোল লফটি–ইটন ৩৮ বলে ৪২ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। ওপেনার ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক করেন ২৬ বলে ৩০ রান। মাঝের সারিতে জান ফ্রাইলিঙ্ক ও জেজে স্মিট ছোট ছোট অবদান রাখলেও কেউ ইনিংস বড় করতে পারেননি।

নেদারল্যান্ডসের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত লাইন–লেংথে বল করে রানচাপ তৈরি করেন। লোগান ফন বিক ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। বাস ডি লিডিও বল হাতে ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিয়ে নামিবিয়ার অগ্রযাত্রা থামান।

১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেদারল্যান্ডস শুরুতে কিছুটা সতর্ক ছিল। তবে তিন নম্বরে নেমে ইনিংসের হাল ধরেন বাস ডি লিডি। ৪৮ বলে ৭২ রানের অপরাজিত ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা। চাপের মুহূর্তে দারুণ শট নির্বাচনের পাশাপাশি সিঙ্গেল–ডাবল নিয়ে রান তোলার ধারাবাহিকতায় ম্যাচটি কার্যত একাই নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। কলিন অ্যাকারম্যান ৩২ ও ম্যাক্স ও’ডাউডের পরিবর্তে খেলতে নামা লেভিট ২৮ রান করে ভিত গড়ে দেন। শেষদিকে অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস ৯ বলে ১৮ রানের ঝোড়ো ক্যামিও খেলেন। ১৮ ওভরেই ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ডাচরা।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান

দলরান/উইকেটওভারউল্লেখযোগ্য পারফরমার
নামিবিয়া১৫৬/৮২০ ওভারলফটি–ইটন ৪২, ফ্রাইলিঙ্ক ৩০
নেদারল্যান্ডস১৫৭/৩১৮ ওভারডি লিডি ৭২*, অ্যাকারম্যান ৩২
সেরা বোলিংফন বিক ২/১৩, ডি লিডি ২/২০
ফলাফলনেদারল্যান্ডস ৭ উইকেটে জয়ীম্যান অব দ্য ম্যাচ: বাস ডি লিডি

এই জয়ের ফলে ‘এ’ গ্রুপে ভারত, নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান—তিন দলেরই পয়েন্ট এখন ২। তবে রান রেটে এগিয়ে গেছে নেদারল্যান্ডস (০.৩৫৬), যেখানে পাকিস্তানের রান রেট ০.২৪০। অবশ্য পাকিস্তান একটি ম্যাচ কম খেলেছে, ফলে তাদের সামনে সমীকরণ পাল্টে দেওয়ার সুযোগ থাকছে।

গ্রুপ পর্বের এই পর্যায়ে নেট রান রেট যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণই যেন এই ম্যাচ। নেদারল্যান্ডস শুধু জয়েই সন্তুষ্ট থাকেনি; দ্রুত রান তুলে ওভার বাঁচিয়ে জয় নিশ্চিত করে তারা টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। সামনে কঠিন ম্যাচ থাকলেও এই আত্মবিশ্বাস তাদের পথচলায় বড় প্রেরণা জোগাবে।