
কর আদায়েে বিভাগ, জেলা, থানা ও উপশহরে বাড়ির মালিকদের তালিকা হচ্ছে
বাদ পড়বে না শপিংমল ও বড় পাইকারী বাজারের ব্যবসায়ীরাও
বিশেষ প্রতিনিধি, জিলাইভ২৪.কম
স্বল্প সময়ের মধ্যে চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও আইনজীবীসহ সব পেশাজীবি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির নাগরিকদের করজালে আনতে কাজ করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এর প্রাক-বাজেট আলোচনায় একথা বলেন চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।
এনবিআর চেয়ারম্যান এর এ বক্তব্য এমন সময়ে আসলো যখন আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্হা বা আইএমএফ সরকারকে গত ফেব্রুয়ারিতে দেয়া ঋনের শর্ত হিসেবে কর বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে।

মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, “সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবীদের মধ্যে যাদের কর প্রদানের যোগ্য বলে মনে করা হয়, তারা করজালের আওতায় আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। আমরা চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, অর্থনীতিবিদ, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য, জেলা চেম্বারের সদস্য, বড় পাইকারী বাজার ও শপিংমল-এ দোকানমালিকদের তালিকা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করে দেখছি। তাদের সবাইকে কীভাবে করজালের মধ্যে নিয়ে আসা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।”
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ধারাবাহিকভাবে করজাল বাড়ানোর কাজ চলছে। এখনও অনেকে আছেন, যারা কর প্রদানের যোগ্য, কিন্তু প্রভাবশালী। তাদেরকে কর দিতে বলতে গেলেই বিরক্তি প্রকাশ করেন। এদের ক্ষেত্রে প্রথমে কিছু শর্ত আরোপ করার বিধি করতে কাজ করছে এনবিআর।
“যেমন কেউ নির্দিষ্ট কিছু সেবা নিতে গেলে প্রথমেই তাকে কর প্রদানের প্রমাণ দেখাতে হবে। এতে করজালে আটকা পড়বে তারা। পর্যায়ক্রমে আরও বিভিন্ন কৌশল আরোপ করে এ করজাল বাড়ানো হবে। তবে এ জন্য দীর্ঘ সময় নেওয়া যাবে না।”
তিনি জানান, রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরের বাড়ির মালিকদের একটা তালিকা করার কাজ চলমান রয়েছে। স্থানভেদে করযোগ্য বলে অনুমিত বাড়ির মালিকদের আয় করজালের মধ্যে নিয়ে আসা হবে।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিআইডিএস গবেষনায় বলা হয়, দেশের ৫ শতাংশ মানুষ ২৫ শতাংশ আয় করেন। সংখ্যার হিসাবে তাঁদের সংখ্যা আনুমানিক ৫০ লাখ।
এই শ্রেণির মধ্যে ব্যবসায়ী ছাড়াও চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী রয়েছেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, করজাল বাড়ানোর অগ্রাধিকার তালিকায় তারা থাকছে।