ডাকসু সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রকাশ্য আলটিমেটাম দিয়ে জানিয়েছেন, যদি হাসিনাসহ সকল খুনিকে ফিরিয়ে আনা না হয় এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হয়, তাহলে তিনি ও ডাকসুর ছাত্র সমাজ সারাদেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য থাকবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ।
মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলেন, “ডাকসুর পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দলের সব সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করার জন্য দেশব্যাপী চিরুনি অভিযান শুরু করার দাবি জানানো হয়েছিল। অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ এর আওতায় গত তিনদিনে ৪,৩৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এখনো বহু সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি আশানুরূপ নয়।”
ডাকসু নেতা আরও উল্লেখ করেন, “সরকারের উচ্চপর্যায়ের সুপারিশ ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসে। যদি এই ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকে, তাহলে দায়ভার সম্পূর্ণভাবে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকেই বহন করতে হবে।”
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে মুসাদ্দিক আলী বলেন, “মূল শুটার ফয়সালকে গ্রেফতারে এখনও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। হাসিনাসহ অন্যান্য খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনারও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।” পররাষ্ট্র উপদেষ্টার ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, “কথায় দৃঢ়তা থাকলেও বাস্তব উদ্যোগ না নিলে এসব বক্তব্য শূন্য। খুনী হাসিনাসহ সকল কসাই ফিরিয়ে আনার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভারতের প্রশাসন যদি সহযোগিতা না করে, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ডাকসুর নেতা সতর্ক করেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হলে, ছাত্র সমাজকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্র, আইন ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
উল্লেখযোগ্য তথ্য সংক্ষেপে:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ডাকসু নেতা | মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ |
| প্রধান দাবি | স্বরাষ্ট্র, আইন ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ |
| কারণ | খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা ও আইনশৃঙ্খলা উন্নতি |
| অভিযানের ফলাফল | অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২: ৪,৩৬০ জন গ্রেফতার |
| অনুসরণীয় পদক্ষেপ | অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী শনাক্ত ও গ্রেফতার |
ডাকসুর এই আলটিমেটাম দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এতে ছাত্র সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সরকারের পদক্ষেপ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসবিরোধী নীতিকে প্রভাবিত করবে।
