জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তৃতীয় সিফট ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি কার্যত দ্রুত হস্তক্ষেপ করে স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে জাবির স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিল্ডিংয়ের ৪০২ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা চলাকালে মো. এহসানুল হককে ধরা হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অনার্স ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ১০১৫ নম্বর কক্ষে ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় এহসানুল হক অন্য একজন শিক্ষার্থীর প্রক্সি হিসেবে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। প্রকৃত পরীক্ষার্থী রাফিদ হোসেন সাজিদ হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রমাণিত হয়, এহসানুল হক রাফিদ হোসেন সাজিদের পক্ষে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। পরবর্তীতে, জাবির প্রক্টরিয়াল বডি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের সামনের এলাকা থেকে আসল পরীক্ষার্থী রাফিদ হোসেন সাজিদকেও আটক করে।
আটককৃত এহসানুল হক জিসান জানিয়েছেন, “আমি রাফিদ হোসেন সাজিদের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, “এ বিষয়ে পরীক্ষা শেষে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করছে, এমন ঘটনা পুনরায় ঘটবে না।”
ঘটনাস্থল ও শিক্ষার্থী তথ্য সংক্ষেপে:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আটককৃত শিক্ষার্থী | মো. এহসানুল হক |
| বিশ্ববিদ্যালয় | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (উর্দু বিভাগ, অনার্স ২০২৩–২৪) |
| হল ও কক্ষ | শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, কক্ষ ১০১৫ |
| প্রক্সি পরীক্ষার আসল শিক্ষার্থী | রাফিদ হোসেন সাজিদ |
| পরীক্ষা কেন্দ্র | জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিল্ডিং, কক্ষ ৪০২ |
| সময় | ২২ ডিসেম্বর, সকাল ১১:৫০ |
| শিফট | তৃতীয় (৩ নম্বর) |
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রক্সি পরীক্ষার ঘটনা কঠোরভাবে দমন করা হবে। ভবিষ্যতে ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে যে, কেউ অন্যজনের পক্ষে পরীক্ষা দিতে আসলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এই ঘটনায় জাবি প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় কোনও ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আইনানুগ পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখযোগ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রক্সি পরীক্ষার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কড়া নজরদারি চালাচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
