মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সাহসী সামরিক হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একই সময়ে, দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি মনে করা ইস্রায়েলও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ গত মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার সরাসরি যোগাযোগ করেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ইরান বিষয়ক কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকলেও, গোপন আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেছেন। একই সময়ে, ইস্রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতান্যাহুও ইরানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই সমন্বিত চাপের ফলশ্রুতিতে ট্রাম্প ইরানের সামরিক ও নেতৃত্ব সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলার অনুমোদন দেন।
প্রথম ঘণ্টার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার অনুমান, আগামী দশকের মধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মুল ভূখণ্ডের জন্য তাত্ক্ষণিক হুমকি নয়, তবুও ট্রাম্প সাহসী এবং অভূতপূর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
মূল ঘটনার সময়রেখা
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১৮ নভেম্বর ২০২৫ | ট্রাম্প ও ক্রাউন প্রিন্সের হোয়াইট হাউস বৈঠক |
| ১৯ নভেম্বর ২০২৫ | মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ হুইটকফ জেনেভায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা |
| ২০ নভেম্বর ২০২৫ | মার্কিন সামরিক বাহিনী একাধিক ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় |
| হামলার পর | ইরান সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালায় |
ক্রাউন প্রিন্স হামলার জন্য দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করেছেন, যদিও তিনি ঘোষণা করেছেন যে সৌদি আকাশসীমা বা স্থল এই অভিযানের জন্য ব্যবহার করা হবে না। এই অবস্থান তার ভাই ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালিদ বিন সালমানও সমর্থন করেছেন।
হামলার পর হোয়াইট হাউসের বাইরে ব্যাপক প্রতিবাদ দেখানো হয়। ট্রাম্প জনতার উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমি যা করতে যাচ্ছি, তা আগে কোনো রাষ্ট্রপতি করেননি। আপনারা এমন রাষ্ট্রপতিকে পেয়েছেন, যিনি যা চান তা বাস্তবায়ন করেন।”
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ হুইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চালাচ্ছেন। তবে সৌদি আরব ও ইস্রায়েলের যৌথ চাপ ট্রাম্পকে দ্রুত ও স্থির সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাবিত করেছে।
এই হামলা মার্কিন “সীমিত আক্রমণ” নীতির প্রচলিত রূপরেখা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচ্যুতি, যা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপের সূচনা করেছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য পুনঃনির্ধারণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতের সংকটের ওপর উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে।
