ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়, অযৌক্তিক এবং পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি অব্যাহত রাখার ‘শাস্তি’ হিসেবে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যা নিয়ে মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে।
বুধবার (৬ আগস্ট) এক সরকারি বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়,
‘ভারতের জ্বালানি আমদানি তার নিজস্ব বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়। ১৪০ কোটিরও বেশি জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অপরিহার্য। অনেক দেশই একই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, অথচ একমাত্র ভারতকে লক্ষ্য করে এমনভাবে শুল্ক আরোপ করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই পদক্ষেপ অনুচিত ও অগ্রহণযোগ্য। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারত প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
শুল্কের তুলনামূলক চিত্র:
| দেশ | মোট শুল্ক (যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য আমদানির উপর) |
| ভারত | ৫০% |
| চীন | ৩০% |
| পাকিস্তান | ২৯% |
ট্রাম্পের যুক্তি ও হুঁশিয়ারি:
যুক্তরাষ্ট্রে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেন,
‘ভারতের সরকার সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে—এটা আমি বিশ্বাস করি। তাই যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি করা পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা জরুরি।’
ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দেন, শুধুমাত্র ভারত নয়—রাশিয়া থেকে তেল কিনে প্রেসিডেন্ট পুতিনের যুদ্ধ অর্থায়নে সহায়তা করছে এমন অন্য দেশগুলোকেও একই ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
ভারতের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট যে তারা এই পদক্ষেপকে শুধু বাণিজ্যিক নয়, কূটনৈতিকভাবেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। এখন দেখার বিষয়, এই বাণিজ্যিক উত্তেজনা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে কোন দিকে নিয়ে যায়।
