বিকেল সাড়ে পাঁচটা। রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড়ে দুই তরুণ ট্রাফিক সহায়ক অটোরিকশা থামাতে দৌড়াচ্ছেন। উল্টো দিক থেকে আসা গাড়ির দিকে দৌড় ও alongside একজন ট্রাফিক পুলিশ, ঢাকা শহরের বিশৃঙ্খল রাস্তায় কিছুটা শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ট্রাফিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দেয়। তখন শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হন। পরবর্তীতে, অন্তর্বর্তী সরকার ও ডিএমপি যৌথভাবে শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন ট্রাফিক সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়।
প্রতিদিন চার ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করলে শিক্ষার্থীরা ৫০০ টাকা পান। তবে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন নিয়মিতভাবে দেওয়া হয় না, জুন ও জুলাই মাসে অনেক শিক্ষার্থী বেতন পাননি। সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহাম্মদ মিয়ান বলেন, ‘ঢাকার ট্রাফিক সামলানো কঠিন। প্রতি সেকেন্ডে সতর্ক থাকতে হয়। আমরা শুধু আইন প্রয়োগ করি না, পুলিশ ও মানুষের মধ্যে দূরত্বও কমাই। অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং।’
দায়িত্ব নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা এক সপ্তাহ প্রশিক্ষণ পেয়ে একটি ভেস্ট পান, তবে আইডি কার্ড এখনও দেওয়া হয়নি। অনেক শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে চাকরির জন্য অভিজ্ঞতার সনদ আশায় কাজ করছেন। নিয়মিত বেতন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অভাব শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ ক্লান্তিকর ও বিপজ্জনক। যানজট, রোদ, ধুলো ও গরমে কাজ করতে গিয়ে শারীরিক কষ্ট হচ্ছে। শাহবাগ মোড়ে দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথমে মানুষ হাততালি দিত, এখন সেই সম্মান নেই। বিপজ্জনক পরিস্থিতিও বেড়েছে।’ নারী ট্রাফিক সহায়কদের জন্য কাজ আরও কঠিন। আনিষা বলেন, ‘অনেকে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখে। তবে নারীদের অংশগ্রহণ থাকলে ট্রাফিক ব্যবস্থায় মানবিকতা বাড়ে।’
চার ঘণ্টার দায়িত্ব প্রায়ই দীর্ঘায়িত হয়। ফলে পড়াশোনা, বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত সময়ের ঘাটতি তৈরি হয়। ধুলো, ধোঁয়া ও শব্দদূষণের কারণে অনেকে ডাস্ট অ্যালার্জি, পিঠব্যথা ও মানসিক চাপের শিকার। প্রাক্তন সহায়ক আবিদ হাসান বলেন, ‘প্রথমে সমস্যা ছিল না। মাসখানেক পর ডাস্ট অ্যালার্জি ও মাথাব্যথা শুরু হয়। পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছিলাম না, তাই চাকরি ছাড়ি।’
বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ৮৭০ জন শিক্ষার্থী ট্রাফিক সহায়ক হিসেবে কাজ করছেন। ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘ট্রাফিক সহায়করা আমাদের কাজে সাহায্য করছে। কিছু সমস্যা থাকলেও আইডি কার্ড ও বেতনের সমস্যা দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা চলছে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ভিতরেই খণ্ডকালীন চাকরির ব্যবস্থা থাকলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে কাজ করতে পারবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাসউদ ইমরান বলেন, ‘গবেষণা সহকারী, শিক্ষণ সহকারী, লাইব্রেরি বা আইটি কাজের সুযোগ থাকলে শিক্ষার্থীরা আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।’
টিএসএন/জিলাইভ
