টেন্ডুলকারকে ছাড়াতে রুটের সময় কত লাগবে

খুব বেশি অনিশ্চয়তা না থাকলে টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড শীঘ্রই জো রুটের দখলে চলে যেতে পারে। সেই রেকর্ডের অধিকারী বর্তমানে ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকার। ২০০৮ সালে ব্রায়ান লারার ১১,৯৫৩ রান ছাড়িয়ে শীর্ষে পৌঁছানোর পর ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান করার গৌরবময় সম্মান রক্ষা করেছেন টেন্ডুলকার। শেষ পর্যন্ত ২০০টি টেস্টে ১৫,৯২১ রান করে এই রেকর্ড তিনি স্থির করেছিলেন।

মধ্যবর্তী সময়ে এই রেকর্ডের দিকে এগোতে পারা খেলোয়াড় খুব কমই ছিলেন। ইংল্যান্ডের সাবেক ওপেনার অ্যালিস্টার কুক ছিলেন এর আগের একজন সম্ভাব্য দাবিদার। তবে ২০১৮ সালে ৩৪ বছর বয়সে ১৬১ টেস্ট খেলে ১২,৪৭২ রান সংগ্রহের পর কুক অবসর নেন। কুকের পরে এবার জো রুটই সেই ব্যাটসম্যান, যিনি শচীনকে ছাড়িয়ে টেস্টে সর্বাধিক রান করার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন।

নিচের টেবিলে শীর্ষ কয়েকজন ব্যাটসম্যানের টেস্ট রেকর্ড তুলে ধরা হলো:

খেলোয়াড়দেশম্যাচইনিংসরানসর্বোচ্চ স্কোর
শচীন টেন্ডুলকারভারত20032915,921248*
জো রুটইংল্যান্ড163*29713,937262
রিকি পন্টিংঅস্ট্রেলিয়া16828713,378257
জ্যাক ক্যালিসদক্ষিণ আফ্রিকা16628013,289224
রাহুল দ্রাবিড়ভারত16428613,288270

বর্তমানে চলমান সিডনি টেস্টের প্রথম ইনিংস পর্যন্ত রুটের রান ১৩,৯৩৭। টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে যেতে তাঁর প্রয়োজন আরও ১,৯৮৪ রান। বয়স ৩৫ বছর হলেও রুট এখনও শক্তিশালী ফর্মে রয়েছেন।

গত পাঁচ বছরে রুটের পারফরম্যান্স দেখা যাক:

বছরটেস্টইনিংসরান
২০২১১৫২৯১,৭০৮
২০২২১৫২৭১,০৯৮
২০২৩১৪৭৮৭
২০২৪১৭৩১১,৫৫৬
২০২৫১০১৮৮০৫

মোট ৬৫টি টেস্টে ১৩,৯৫৪ রান করে গড়ে বছরে ১,১৯০ রান সংগ্রহ করেছেন। এই সময়ে গড় ব্যাটিং অর্ডার ৫৫.১২, যা তার ক্যারিয়ারের গড় (৫১.২৩) থেকেও বেশি। অর্থাৎ বয়স বাড়লেও রুট এখনো শীর্ষফর্মে।

ইংল্যান্ডের বাকি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২৫-২৭) সিরিজের সূচি:

সময়প্রতিপক্ষস্থানটেস্ট সংখ্যা
জুন ২০২৬নিউজিল্যান্ডইংল্যান্ড
আগস্ট ২০২৬পাকিস্তানইংল্যান্ড
ডিসেম্বর ২০২৬দক্ষিণ আফ্রিকাদক্ষিণ আফ্রিকা
ফেব্রুয়ারি ২০২৭বাংলাদেশবাংলাদেশ

এই সিরিজে রুট সর্বাধিক ২২টি ইনিংস খেলার সুযোগ পাবেন। যদি ক্যারিয়ার গড় রানের হিসাব ধরে চলেন, টেন্ডুলকারকে ছাড়াতে তাঁকে অন্তত ২০২৮ সাল পর্যন্ত খেলতে হবে, সেই সময় বয়স ৩৮ বছর হবে। তবে ক্রিকেটের জগতে অনেক কিছু অনিশ্চিত। রুটের টেস্ট খেলার ইচ্ছা, ফর্ম, এবং অসংখ্য অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সব মিলিয়ে এই রেকর্ড ভাঙার চ্যালেঞ্জকে গৌরবময় ও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।