কক্সবাজারের টেকনাফে একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে টেকনাফ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বিএনপির অফিসে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এতে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, আসবাবপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিসংযোগ ঘটায়। তারা দাবি করেন, অফিসটি দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। নিয়মিত সভা, কর্মী সমন্বয় ও রাজনৈতিক কার্যক্রম এখান থেকেই পরিচালিত হতো। ফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কাগজপত্র ও নথির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দলীয় তথ্য ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, রাতের আঁধারে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে অফিসের ভেতরে থাকা বহু মূল্যবান দলীয় নথি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী ও ফ্যাসিবাদী চক্র’ এ ধরনের নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ জানান, রাতের শেষ প্রহরে হঠাৎ আগুনের শিখা দেখতে পান তারা। তবে আগুন লাগার সময় আশপাশে তেমন লোকজন না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো অফিসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরদিন সকালে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে এটি অগ্নিসংযোগ নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান।
নিম্নে ঘটনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | টেকনাফ পৌরসভা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড |
| সময় | ৪ এপ্রিল, দিবাগত গভীর রাত |
| ক্ষয়ক্ষতি | গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও আসবাবপত্র পুড়ে যাওয়া |
| সম্ভাব্য কারণ | অগ্নিসংযোগ (অভিযোগ) |
| আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ | ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তদন্ত চলমান |
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ও সহনশীলতার প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
