ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় টিকটক ভিডিও তৈরি করতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম মো. ইমরান তালুকদার (২৫), যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “বিপি ইমরান” নামে পরিচিত। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া ইমরান তালুকদার আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাইয়ুমের ছেলে। তিনি ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একটি ছোট কনটেন্ট টিম গঠন করেছিলেন বলে জানা গেছে, যেখানে কয়েকজন তরুণ-তরুণী নিয়মিত ভিডিও নির্মাণে অংশ নিতেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, ইমরান বেশ কিছুদিন ধরে তাকে দিয়ে টিকটক ভিডিও তৈরি করাতেন। শুরুতে তিনি ইমরানের অনুরোধে ভিডিওতে অংশ নিলেও পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা কারণে টিকটক কনটেন্ট তৈরিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং এ নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১২ মার্চ দুপুরে ইমরান কৌশলে ওই তরুণীকে ডেকে নেন। সেখানে তিনি জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থলে আরও দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটর—জুনায়েত ও সোমাইয়া উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা ঘটনায় ইমরানকে সহায়তা করেন এবং পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে মারধরও করেন। ঘটনার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় শনিবার (১৪ মার্চ) গভীর রাতে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. ইমরান তালুকদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং জুনায়েত ও সোমাইয়াকে সহযোগী আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ ও স্থানীয় অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রোববার বিকেলে অভিযুক্ত ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার অন্য দুই আসামিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
ঘটনার মূল তথ্যসংক্ষেপ নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | পলাশবাড়ী এলাকা, আশুলিয়া, সাভার |
| অভিযোগিত ঘটনার তারিখ | ১২ মার্চ |
| মামলা দায়ের | ১৪ মার্চ গভীর রাত |
| গ্রেফতারের তারিখ | ১৫ মার্চ |
| প্রধান অভিযুক্ত | মো. ইমরান তালুকদার (বিপি ইমরান), বয়স ২৫ |
| সহযোগী অভিযুক্ত | জুনায়েত ও সোমাইয়া |
| অভিযোগ | ধর্ষণ ও মারধর |
| তদন্তকারী থানা | আশুলিয়া থানা |
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্যও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নৈতিকতার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতায় অনেক তরুণ-তরুণী কনটেন্ট তৈরিতে যুক্ত হচ্ছেন। তবে কখনো কখনো এই কার্যক্রম ঘিরে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, চাপ কিংবা অনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের নির্ভয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
