টাঙ্গাইল জোকারচরে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ভ্যানচালক ও এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন গোহালিয়াবাড়ী গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ভ্যানচালক আমির আলী (৪০) এবং একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে যাত্রী শরিফ (৪১)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি প্রাইভেটকার জোকারচর এলাকায় পৌঁছালে সড়ক পারাপারের সময় একটি যাত্রীবাহী ভ্যানকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় ভ্যানচালক ও যাত্রী উভয়ই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে আসেন। চিকিৎসক শরীফকে মৃত ঘোষণা করেন। ভ্যানচালক আমির আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।

যমুনা সেতু পূর্বপার থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শরিফুল ইসলাম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, “দুর্ঘটনার মূল কারণ প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি এবং ভ্যান পারাপারের সময় সতর্কতার অভাব। প্রাইভেটকার চালককে আটক করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।”

স্থানীয়রা জানান, জোকারচর এলাকায় পথ সংকীর্ণ এবং গাড়ির চাপ বেশি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। প্রতি বছর এ রুটে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনার খবর আসে, বিশেষত যাত্রীবাহী ভ্যান ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর টাঙ্গাইলের প্রধান সড়ক দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিম্নরূপ:

বছরমোট দুর্ঘটনানিহতের সংখ্যাগুরুতর আহতলঘু আহত
২০২০১২০৫২৩০৮০
২০২১১৩৫৬১৪০৯০
২০২২১৪৮৭৩৪৫১০০
২০২৩১৫৫৮০৫০১২৫

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জোকারচর এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন নিয়মিত পথপরিদর্শন, স্পিড ব্রেকার স্থাপন এবং স্থানীয় সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, নিহত ভ্যানচালক ও যাত্রীর পরিবার স্থানীয়ভাবে মৃতদেহের সৎকারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় যাতে না ঘটে তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে সড়ক নিরাপত্তার অপরিহার্যতা এবং সবার জন্য সতর্ক থাকার গুরুত্ব। সড়ক নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল চালনার প্রতি সচেতনতা না বাড়ালে, এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে না।