ঝিনাইদহে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলা: উত্তপ্ত কালীগঞ্জ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনের নির্বাচনী মাঠ সংঘাতময় হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় দুই জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। অভিযোগের তির উঠেছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খাঁনের সমর্থকদের দিকে।

হামলার ঘটনা ও প্রেক্ষাপট

বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজারে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিকেলে কালীগঞ্জ সরকারি ভূষণ স্কুল মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের প্রথম নির্বাচনী জনসভা নির্ধারিত ছিল। ওই সভায় যোগ দিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে ফিরোজের সমর্থকরা সমাবেশস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। মিছিলটি রামচন্দ্রপুর বাজার অতিক্রম করার সময় ধানের শীষ প্রতীকের একদল অনুসারী অতর্কিতভাবে তাদের ওপর চড়াও হয়। এতে শান্তিপূর্ণ মিছিলটি পণ্ড হয়ে যায় এবং রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও হতাহতের তথ্য:

বিবরণবিস্তারিত তথ্য
আহতদের নামআনোয়ার হোসেন কালু ও শহিদুল ইসলাম।
আঘাতের ধরণআনোয়ার হোসেনের দুই হাত ও বাম পা ভেঙে গেছে।
ঘটনার সময়বৃহস্পতিবার, দুপুর ২টা ৩০ মিনিট।
অভিযুক্ত পক্ষধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকবৃন্দ।
আক্রান্ত পক্ষস্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থক।
চিকিৎসাকালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

প্রার্থীদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও অভিযোগ

আহতদের দেখতে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনসভা করা আমার অধিকার। কিন্তু ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খাঁনের লোকজন আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তারা আমার কর্মীদের হাত-পা ভেঙে দিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করতে চায়।”

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে রাশেদ খাঁন জানিয়েছেন, তিনি বা তাঁর কোনো কর্মী এই ধরণের কোনো সংঘাতের সাথে জড়িত নন। তিনি মনে করেন, এটি প্রার্থীর ব্যক্তিগত বা স্থানীয় কোনো বিরোধের জের হতে পারে এবং ঘটনার বিস্তারিত না জেনে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বহিষ্কার প্রসঙ্গ

ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল দীর্ঘদিনের। সাইফুল ইসলাম ফিরোজ কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং এই আসনে মনোনয়নের প্রধান দাবিদার ছিলেন। কিন্তু কেন্দ্র থেকে রাশেদ খাঁনকে ধানের শীষ দেওয়া হলে ফিরোজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন। ফলস্বরূপ, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবুও স্থানীয় বিএনপির একটি বিরাট অংশ ফিরোজের পক্ষে মাঠে সক্রিয় থাকায় ধানের শীষের প্রার্থীর সাথে তাঁর সমর্থকদের এই রেষারেষি এখন সহিংস রূপ নিয়েছে।

প্রশাসনের ভূমিকা

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, “নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

উপসংহার

নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই ঝিনাইদহে এই সংঘাত সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। রাজনীতির মাঠে সহনশীলতা বজায় না থাকলে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। শান্তি বজায় রাখতে এবং সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এখন অপরিহার্য।