সংবিধান বিশেষজ্ঞ পরিবারের উত্তরসূরি ব্যারিস্টার তানিয়া আমির সাম্প্রতিক এক ভিডিও বার্তায় ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই সনদ মূলত একটি রাজনৈতিক চুক্তি—এর কোনো সাংবিধানিক বা আইনগত ভিত্তি নেই। ফলে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছামতো এমন কোনো সনদকে অনুমোদন বা বৈধতা দিতে পারেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কেবল সংসদের; সংসদে বিল উত্থাপন, আলোচনা ও ভোটাভুটির মাধ্যমে পাস হওয়ার পর তা রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে গেজেট আকারে প্রকাশ পেলে তবেই আইন কার্যকর হয়। এটাই সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া।
ব্যারিস্টার আমির অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৯৭২ সালের সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে ‘জুলাই সনদ’কে বিকল্প কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক চুক্তিকে আইনের মর্যাদা দেওয়ার প্রয়াস—যা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস সাংবিধানিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ-এর অধীনে শপথ নিয়েছিলেন এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতির পরামর্শক্রমে সরকার গঠন সংবিধানের মধ্যেই পড়ে। অতএব রাজনৈতিক সমঝোতাকে সরাসরি সংবিধানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় না; এর জন্য সংসদীয় প্রক্রিয়া অপরিহার্য।
সংবিধান সংশোধন বা আইন প্রণয়নের স্বীকৃত ধাপ
| ধাপ | প্রক্রিয়ার বিবরণ |
|---|---|
| ১ | সংসদে বিল উত্থাপন |
| ২ | সংসদীয় আলোচনা ও কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা |
| ৩ | হ্যাঁ-না ভোটে বিল পাস |
| ৪ | রাষ্ট্রপতির সম্মতি |
| ৫ | গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকারিতা |
ব্যারিস্টার তানিয়া আমিরের মতে, বিশেষ কোনো ঐতিহাসিক বা রাজনৈতিক প্রয়োজন দেখা দিলে সংসদে আলোচনা সাপেক্ষে গণপরিষদ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। সেই কমিটি স্পিকারের নিকট শপথ গ্রহণ করে প্রস্তাব তৈরি করবে এবং আইন আকারে বিল উত্থাপন করবে। প্রাতিষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই ও গণতান্ত্রিক ভোটাভুটির পরই তা কার্যকর হতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, দলীয় স্বার্থে সংবিধান পরিবর্তনের আহ্বান রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে পারে। তাঁর ভাষায়, ১৯৭২ সালের সংবিধান—যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে প্রণীত—রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো নির্ধারণ করেছে। সেটিকে অগ্রাহ্য করে বিকল্প সনদ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা সাংবিধানিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
সবশেষে তিনি নাগরিক সমাজ, আইনজীবী মহল ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু সাংবিধানিক পদ্ধতি উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক চুক্তিকে আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের জন্য শুভ নয়।
