জুলাই-আগস্টের ফৌজদারি মামলা সরকার প্রত্যাহার করবে

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া নাগরিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল ফৌজদারি মামলাগুলি প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি, আন্দোলনে সক্রিয় ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপদেষ্টা পরিষদে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দায়মুক্তি আইন” অনুমোদিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক সমসাময়িক বিষয়ক ব্রিফিংয়ে সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন,
“জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে। নতুন করে আর কোনো মামলা দায়ের করা হবে না। পাশাপাশি চলতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে কোথাও এখনও কোনো মামলা প্রযোজ্য কিনা।”

উপদেষ্টা অধ্যাপক আরও জানিয়েছেন যে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আন্দোলনে অংশ নেওয়া জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং তাদের কার্যক্রমের স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে দায়মুক্তি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের প্রভাবে, আন্দোলনের সময় অংশগ্রহণকারীরা সম্ভাব্য আইনি চাপ ও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হবেন না।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ৮ জানুয়ারি তার একটি ফেসবুক পোস্টে “দায়মুক্তি অধ্যাদেশ”-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন,
“এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে জুলাই বিপ্লবের বীররা তাদের প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি পান এবং আন্দোলনে যুক্ত নাগরিকরা নিরাপদে থাকেন।”

নিচের টেবিলে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট আইনি উদ্যোগ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়বস্তুবিস্তারিত তথ্য
আন্দোলনের সময়কাল২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট
আইনি উদ্যোগদায়মুক্তি আইন ও মামলা প্রত্যাহার
দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাঅধ্যাপক আসিফ নজরুল
লক্ষ্যআন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা
পূর্ববর্তী পদক্ষেপ৮ জানুয়ারি দায়মুক্তি অধ্যাদেশ খসড়া চূড়ান্ত

সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া নাগরিকদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব এবং আইনি নিশ্চয়তার প্রকাশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করবে।

এদিকে, সরকারি সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আইন প্রয়োগের সুস্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে দায়মুক্তি কার্যকর হবে তা বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত করা হবে। এটি নিশ্চিত করবে যে, দায়মুক্তি আইন যথাযথ ও স্বচ্ছভাবে প্রয়োগ হবে।