লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বান্ধবীর মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বেড়াতে গিয়ে জিম্মি ও মারধরের শিকার হয়েছেন এক প্রবাসী দম্পতি। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও ব্যাংকের কার্ড ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রিয়াদ হাসান বয়াতি নামে এক কৃষকদল নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রায়পুর বাজারের দেনায়েতপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক রিয়াদ রায়পুর পৌর কৃষকদলের সভাপতি পদপ্রার্থী এবং রায়পুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বেই প্রবাসী সবুজ ও তার স্ত্রী মিলি আক্তারকে জিম্মি করে মারধর করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে রায়পুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মীরগঞ্জ সড়কে অবস্থিত ফারুক আহম্মেদের ভবনের নিচতলায় ঘটনাটি ঘটে। ওই ভবনের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন মিলি আক্তারের বান্ধবী সাথী আক্তার। ঘটনার দিন সাথীর মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নিতে বান্ধবী মিলি ও তার স্বামী প্রবাসী সবুজকে আমন্ত্রণ জানান তিনি।
দাওয়াত পেয়ে ওই বাসায় যান প্রবাসী দম্পতি। তবে সেখানে অবস্থানকালে হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি বাসায় প্রবেশ করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা প্রথমে মিলি আক্তারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে তারা সাথী আক্তারের প্রায় এক ভরি দুই আনা স্বর্ণালংকার লুট করে নেন।
এ সময় মিলি অভিযুক্তদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে তিনি রক্তাক্ত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা প্রবাসী সবুজ ও তার স্ত্রীকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং ব্যাংকের কার্ড নিয়ে নেন। এরপর দম্পতির বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা সবুজ ও মিলির মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। পরে তাদের একটি কক্ষে নিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। এ সময় সবুজ নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ের সত্যতা প্রমাণ করতে বিয়ের ছবি দেখান। কিন্তু অভিযুক্তরা তাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর আইনের আশ্রয় নেন প্রবাসী সবুজ। ঘটনার পরদিন তিনি বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
মামলার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটকের কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেলে রায়পুর বাজারের দেনায়েতপুর এলাকা থেকে কৃষকদল নেতা রিয়াদ হাসান বয়াতিকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম বলেন, ‘রিয়াদ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’
তবে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও ব্যাংকের কার্ড উদ্ধার হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রবাসী দম্পতিকে জিম্মি করে মারধর, টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট এবং তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে অপমানজনক পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগগুলো এখন পুলিশের তদন্তাধীন। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা হবে।









