চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতা লতিফুর রহমান সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে যে কোনো আগ্রহী নেতা জামায়াতে যোগ দিলে তাদের দায়-দায়িত্ব নেবে দল। তিনি এসময় দাবি করেন, নবাবগঞ্জের প্রশাসনিক ও আইন-আদালত সম্পর্কিত দায়িত্বও তারা পরিচালনা করবে।
গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া মদনমোড় এলাকায় একটি উঠান বৈঠকে তিনি এই বক্তব্য রাখেন। সভার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
লতিফুর রহমান বলেন, “আপনারা আওয়ামী লীগ বা বিএনপি থেকে আমাদের দলে যোগ দিন। জামায়াতকে আগের অবস্থার সাথে মিলিয়ে দেখবেন না। এখন এটি একটি শক্তিশালী দল। নবাবগঞ্জের সকল সমস্যা আমি দেখছি। যারা আওয়ামী লীগ থেকে আসবেন, তারা এখানে নির্দ্বিধায় কাজ করতে পারবেন। আইন-আদালত ও কোর্টের দায়িত্ব আমরা নেব। আমরা চাই সবাই আমাদের সঙ্গে একত্রিত হোক।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নিজেও একাত্তরের শহিদ পরিবারের সন্তান। ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দেশ স্বাধীন করার জন্য কাজ করেছি। ১৯৭৬ সালে মুসলমান হয়েছি। আজ যারা আওয়ামী লীগের ছিল, তারা জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন। তাদের জন্য পুলিশ কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।”
লতিফুর রহমান হিন্দু ও বিএনপির নেতাদেরও দাওয়াত দেন, বলেন, “সবাই আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারবে। অপরাধী হিসেবে কাউকে দেখা হবে না। যারা আসবে, তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।”
তিনি দলের ঐক্য এবং ইসলামের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, “আমাদের নেতাদের ওপর যে zulm (নির্যাতন) হয়েছে, তা আমাদের ভুলে যাওয়ার নয়। বহু নেতাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, গুম করা হয়েছে। তাই আমাদের উচিত ইসলামের সঠিক দিক সম্পর্কে জনগণকে শিক্ষা দেওয়া।”
নবাবগঞ্জে জামায়াতের সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বের যোগদানের প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে:
| দল থেকে যোগদান | পরিচিত নেতা | দায়িত্বের ক্ষেত্র |
|---|---|---|
| আওয়ামী লীগ | একাধিক স্থানীয় নেতা | স্থানীয় প্রশাসন, কোর্ট ও থানা দায়িত্ব |
| বিএনপি | দুইজন সাবেক মন্ত্রী | রাজনৈতিক সমন্বয় ও দলীয় কার্যক্রম |
| অন্যান্য | স্থানীয় সামাজিক নেতা | ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব |
লতিফুর রহমানের এই আহ্বান ও বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাজনৈতিক বিন্যাসে পরিবর্তন আনার চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
