একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ দলের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এটি জামায়াতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের ঘটনা।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর জামায়াত আমির সেখানে যান। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ডা. শফিকুর রহমান মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, “রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটি আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে আমার দলের নেতাদের সঙ্গে এখানে আসা প্রয়োজন।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “এমন পবিত্র দিনে এ ধরনের প্রশ্ন করা উচিত নয়। আমরা ভাষা শহীদদের পাশাপাশি ১৯৪৭ সালের শহীদ, ১৯৫২ সালের শহীদ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদেরও স্মরণ করি। বিশেষ করে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট শাসনামলে যারা শহীদ হয়েছেন তাদেরকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদেরকেও আমরা স্মরণ করি।”
ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রয়োজন নয়, বরং এটি জাতির প্রতি নৈতিক কর্তব্য। তিনি বলেন, “জাতির মুক্তি, ফ্যাসিবাদমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক সমাজ গঠনের জন্য আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং কোনো আপস আমরা করব না।”
তিনি আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
নিচের টেবিলটি জামায়াত আমিরের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকা তুলে ধরেছে:
| নাম | পদবী/সম্পর্ক | উপস্থিতির উদ্দেশ্য |
|---|---|---|
| ডা. শফিকুর রহমান | জামায়াত আমির, বিরোধী দলীয় নেতা | পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত পরিচালনা |
| নাহিদ ইসলাম | জাতীয় নাগরিক পার্টি নেতা | দলের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিতি |
| আখতার হোসেন | রাজনৈতিক নেতা | দলের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিতি |
| হাসনাত আবদুল্লাহ | রাজনৈতিক নেতা | দলের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিতি |
| অন্যান্য ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা | বিভিন্ন দল | সমবেতভাবে শহীদদের শ্রদ্ধা প্রকাশ |
এবারের শ্রদ্ধা নিবেদন জামায়াতের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা পূর্বে দলের পক্ষ থেকে কখনও করা হয়নি। এটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনার পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনের প্রতি সমগ্র জাতির সম্মান প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
