জাফরুল ইসলাম চৌধুরী (১৪ অক্টোবর ১৯৫০ — ৮ নভেম্বর ২০২২) ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিবিদ এবং চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলীয় সরকারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
Table of Contents
জাফরুল ইসলাম চৌধুরী | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

প্রাথমিক ও শিক্ষা জীবন
জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ১৪ অক্টোবর ১৯৫০ সালে চট্টগ্রামের বাশঁখালী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশুনায় তিনি বাণিজ্য বিষয়ে স্নাতক লাভ করেছিলেন।
কর্মজীবন
চৌধুরী ১৯৯৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।[১] ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মনোনীত হয়েছিলেন। ২০০৯ সালের জুনে তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ইউনিটের আহ্বায়ক হন। ২০১০ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। নবম সংসদে তিনি বাংলাদেশ-জাতীয় সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একমাত্র সংসদ সদস্য ছিলেন।
তিনি এছাড়া ১৯৯৬-৯৭ সালে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ছিলেন।

পারিবারিক জীবন
পরিবারে তার ১ স্ত্রী, ২ পুত্র ও ২ কন্যা ছিল।
মৃত্যু
জাফরুল ইসলাম ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালে ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি শুরু করেন। জিয়া যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির পদের জন্য নির্বাচন করবেন তখন তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
ইতিহাস
প্রতিষ্ঠা
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসলে জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। জাগদলকে বিএনপির সাথে একীভূত করা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন এবং এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এর প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়ার এই দলে বাম, ডান, মধ্যপন্থি সকল প্রকার লোক ছিলেন। বিএনপির সবচেয়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর নিয়োগ পদ্ধতি। প্রায় ৪৫ শতাংশ সদস্য শুধুমাত্র রাজনীতিতে যে নতুন ছিলেন তাই নয়, তারা ছিলেন তরুণ।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।
এখানে উল্লেখ্য, বিএনপি গঠন করার আগে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮ আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও দেখুনঃ