জাপান আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের সর্ববৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে। ২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই কেন্দ্রটি সম্প্রতি একটি কারিগরি অ্যালার্ম ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া স্থগিত করেছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রুটিটি নিরাপত্তাজনিত কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করেনি এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর নির্ধারিত তারিখেই কার্যক্রম শুরু হবে।
টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) পরিচালিত নিগাতা প্রদেশের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রধান তাকেয়ুকি ইনাগাকি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অ্যালার্মের সেটিংস সংক্রান্ত একটি সামান্য ভুল শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলকভাবে প্রক্রিয়া থামানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতায় কোনো প্রভাব ফেলেনি। সংশোধন সম্পন্ন হওয়ায় আমরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চুল্লি চালু করতে প্রস্তুত।”
গত মাসে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কেন্দ্রের একটি চুল্লিতে পুনঃচালনার প্রস্তুতি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অ্যালার্ম ত্রুটিটি ধরা পড়ে। জাপানের কঠোর পারমাণবিক নিরাপত্তা নীতিমালার আওতায় বিষয়টি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। এই সতর্কতা দেশটির পারমাণবিক খাতে ২০১১ সালের পর থেকে অনুসৃত “নিরাপত্তা আগে” নীতিরই প্রতিফলন।
কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যার মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭,৯৬৫ মেগাওয়াট। এখানে মোট সাতটি চুল্লি রয়েছে। ২০১১ সালের মার্চে জাপানে সংঘটিত শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামির ফলে ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে এবং তিনটি চুল্লি গলে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাপান সরকার সারা দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং নিরাপত্তা মান পুনর্মূল্যায়ন শুরু করে। সেই সময় থেকেই কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কেন্দ্রটিও কার্যত অচল ছিল।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য পূরণে জাপান আবার পারমাণবিক শক্তির দিকে ধীরে ধীরে ফিরছে। আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার জন্য এই কেন্দ্র পুনরায় চালু করা সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নিচের সারণিতে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কিছু মূল তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অবস্থান | নিগাতা প্রদেশ, জাপান |
| পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান | টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) |
| মোট চুল্লির সংখ্যা | ৭টি |
| মোট উৎপাদন সক্ষমতা | প্রায় ৭,৯৬৫ মেগাওয়াট |
| প্রাথমিক বন্ধের সময় | ২০১১ (ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর) |
| পুনরায় চালুর নির্ধারিত তারিখ | ৯ ফেব্রুয়ারি |
বিশ্লেষকদের মতে, এই পুনরায় চালু শুধু জাপানের বিদ্যুৎ খাতের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আস্থা তৈরি করতে পারলে, জাপান ধীরে ধীরে পারমাণবিক শক্তিকে তার জ্বালানি মিশ্রণে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।
