চলমান টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে কানাডাকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে টুর্নামেন্ট শেষ করল আফগানিস্তান। চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আফগানরা কেবল জয়ই পায়নি, বরং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের নতুন রেকর্ড গড়েছে। টানা দুই ম্যাচে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও, শেষবেলার এই পারফরম্যান্স আফগান ক্রিকেটের উদীয়মান শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।
ইব্রাহিম জাদরানের ব্যাটিং তাণ্ডব ও দলীয় রেকর্ড
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে আফগানিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান সংগ্রহ করে। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই আফগানদের প্রথম ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ। এই পাহাড়সম পুঁজি গড়তে মূল কারিগরের ভূমিকা পালন করেন ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান। তিনি ৫৬ বলে ৯৫ রানের এক অনবদ্য এবং হার না মানা ইনিংস খেলেন, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো আফগান ব্যাটারের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ। তার ইনিংসে ছিল দর্শনীয় সব শট ও নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন আরেক ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৩০) এবং মিডল অর্ডারে সেদিকউল্লাহ আতাল (৪৪)।
আফগানিস্তান বনাম কানাডা ম্যাচের পরিসংখ্যান একনজরে:
| বিষয় | আফগানিস্তান (ব্যাটিং) | কানাডা (ব্যাটিং) |
| মোট রান | ২০০/৫ (২০ ওভার) | ১১৮/৮ (২০ ওভার) |
| শীর্ষ ব্যাটার | ইব্রাহিম জাদরান (৯৫*) | হর্শ ঠাকার (৩০) |
| সেরা বোলার | মোহাম্মদ নবী (৪/৭) | কলিম সানা (২/৩৩) |
| ফলাফল | আফগানিস্তান ৮২ রানে জয়ী | – |
| ম্যাচ সেরা | ইব্রাহিম জাদরান | – |
নবীর স্পিন জাদু ও কানাডার ব্যাটিং বিপর্যয়
২০১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল কানাডা। আফগান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও নিখুঁত লাইন-লেন্থের সামনে কানাডার ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি। বিশেষ করে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর স্পিন বিষে নীল হয়েছে কানাডার টপ অর্ডার। নবী তার ৪ ওভারের কোটায় মাত্র ৭ রান খরচ করে তুলে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট, যা তার টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার।
কানাডা ৯ ওভারের মধ্যে মাত্র ৪৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা যুবরাজ সামরা এদিন মাত্র ১৭ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন হর্শ ঠাকার, যা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। অধিনায়ক রশিদ খানও বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন, তিনি ১৯ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট।
বিশ্বকাপের প্রাপ্তি ও বিদায়
গ্রুপ পর্বের শুরুটা আশানুরূপ না হওয়ায় আফগানিস্তান আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিল। তবে শেষ দুই ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কানাডার বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তারকারী জয় তাদের দলগত সংহতি প্রমাণ করে। বিশেষ করে চেন্নাইয়ের স্পিন সহায়ক উইকেটে নবী ও রশিদের রসায়ন এবং ইব্রাহিম জাদরানের ফর্ম আগামী দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোর জন্য আফগানদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার ২০০ রান করার গৌরব নিয়ে তারা মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছে।
