বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় কবি শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়-অত্যাচার, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। তারা ছিলেন মানবতাবাদী ও সাম্যবাদী দর্শনে বিশ্বাসী। আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে ‘বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আলোচকবৃন্দ এ কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় কবি শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার

বক্তারা বলেন, এই দুই মহান ব্যক্তিত্ব অসম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করতেন। তাঁরা ছিলেন স্বাধীন চিত্তের অধিকারী। মানুষের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে তাঁরা ছিলেন আপোষহীন। চেতনা ও আদর্শে বঙ্গবন্ধু ও কবি নজরুল হলেন অভিন্ন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ও ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালস এর সহায়তায় এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একই আদর্শ ও চেতনায় বিশ্বাস করতেন। তাঁরা অন্যায়, অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়ে গেছেন। তাঁরা দুজনেই সাম্যের গান গেয়েছেন। কাজী নজরুল ইসলাম লেখনীর মাধ্যমে মানবের শৃঙ্খলতা ভেঙ্গে মুক্তির গান গেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ও নজরুলের সেই আদর্শকে বাস্তবে রূপ দান করেছেন। এ দুজনই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।
সভাপতির বক্তৃতায় বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, জাতীয় কবির সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিলো। বঙ্গবন্ধু জাতীয় কবির লেখনী থেকে প্রেরণা নিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ও কবি নজরুলের মূল আদর্শই হল মানুষের সেবা করা ও সাম্যের গান গাওয়া।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সংস্কৃতি সচিব মোঃ আবুল মনসুর। মূল আলোচনা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি নূরুল হুদা । আলোচক হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডাঃ একেএম মোশাররফ হোসন ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডাঃ ছয়েফ উদ্দিন আহমদ।

আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন সাংবাদিক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায়। এসময় অন্যান্যের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বনিক, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহীন আকতার, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো: হাবিবুর রহমান দুলাল, গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক ডা.মোঃ হারিসুল হক ও ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালস এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ২২ জুলাই চিকিৎসকদের পরামর্শে বঙ্গবন্ধু ‘কবিভবন’ থেকে কবিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন আই পিজি এম আর)-এর ১১৭ নম্বর কেবিনে স্থানান্তর করেন। এক বছর ১ মাস ৮ দিন এ কেবিনে চিকিৎসক ও নার্সদের নিবিড় যতœ ও সেবা দেওয়া হয় এই কবিকে।
আরও দেখুনঃ
- বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশের সম্ভাবনাকে হত্যা করা হয়েছিল : নৌ প্রতিমন্ত্রী
- বিএনপি-জামায়াতের ভাষায় কথা বলছেন বামপন্থীরা : আমির হোসেন আমু
- সরকার পরিবর্তন চাইলে নির্বাচনে আসতে হবে : বিএনপিকে ওবায়দুল কাদের
- বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়নের প্রশংসা করেছে বিশ্ব ব্যাংক
- নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে পরাজিত করা সম্ভব নয় : ওবায়দুল কাদের