সরকার জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রচলিত কাঠামো পরিবর্তন করে একটির পরিবর্তে চারটি প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি আলটিমেটাম এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সব পক্ষকে ছাড় দিয়ে সিদ্ধান্ত মেনে চলার বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কোনো দল সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাননি।
গণভোটের প্রচলিত কাঠামোতে সাধারণত একটি প্রশ্ন থাকে, যার ওপর হ্যাঁ বা না ভোট প্রদান করা হয়। এবার পরিকল্পনা করা হচ্ছে চারটি প্রশ্নে হ্যাঁ বা না ভোট নেওয়ার। প্রথম প্রশ্নে থাকবে—যেসব বিষয়ে সব দল একমত হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা হবে কি না। দ্বিতীয় প্রশ্ন হবে পিআর পদ্ধতি সংক্রান্ত। তৃতীয় প্রশ্নে থাকতে পারে নোট অব ডিসেন্টসহ সনদ বাস্তবায়নের বিষয়। চতুর্থ প্রশ্নে রাখা হতে পারে—নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে না বিপক্ষে।
বৃহত্তর রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে। বিএনপি মনে করছে, গণভোট আগে করার সময় নেই এবং জাতীয় নির্বাচনের দিনে একই ব্যালটে গণসম্মতি নেওয়াই সবচেয়ে যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য। জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তাদের পাঁচ দফা দাবি মানা না হলে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি নির্বাচনের আগে গণভোট ও বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট বাদ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
সরকার শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা সব দলের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। সরকারি সূত্র জানায়, জুলাই জাতীয় সনদের আদেশ চূড়ান্ত এবং আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
জিলাইভ/টিএসএন
