জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে কোলম্যানের সম্ভাবনা উজ্জ্বল

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ নিয়োগের চূড়ান্ত সময়সীমা আজ উত্তীর্ণ হতে যাচ্ছে। নতুন কারিগরি প্রধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সামনে এখন প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক সংস্থান। বিশেষ করে ক্রিস কোলম্যান কিংবা থমাস ডুলির মতো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুপরিচিত ও উচ্চমানের কোচদের আর্থিক চাহিদা মেটানো বাফুফের বর্তমান তহবিলের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এই সংকট নিরসনে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল সরাসরি সরকারের মুখাপেক্ষী হয়েছেন এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

সরকারি সহযোগিতা ও নীতিনির্ধারণী বৈঠক

সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জাতীয় দলের জন্য উঁচুমানের কোচ নিয়োগে প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে বাড়তি অর্থায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর সেই ইতিবাচক বার্তার ওপর ভিত্তি করেই বাফুফে শীর্ষ পর্যায়ের কোচদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তিতে যাওয়ার আগে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুত অর্থের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে চান তাবিথ আউয়াল। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিমন্ত্রীর সাথে এই বিষয়ে বৈঠকের কথা থাকলেও তাঁর রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আজ শুক্রবার বাফুফে কর্মকর্তাদের সাথে প্রতিমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে, যেখানে কোচ নিয়োগের আর্থিক রূপরেখা চূড়ান্ত হতে পারে।

কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ও আর্থিক সমীকরণ

নিচে বাফুফের কোচ নিয়োগের সংক্ষিপ্ত তালিকা ও তাঁদের নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিষয়সমূহ সারণিবদ্ধ করা হলো:

প্রার্থীর নাম ও পরিচিতিসম্ভাব্য মাসিক ব্যয় (টাকায়)বাফুফের নিজস্ব সক্ষমতা (টাকায়)বর্তমান অবস্থা
ক্রিস কোলম্যান (সম্পূর্ণ কারিগরি দলসহ)৬০,০০,০০০ – ৭০,০০,০০০১৫,০০,০০০ – ২০,০০,০০০আলোচনার শীর্ষে; সরকারি সহায়তার অপেক্ষায়।
ক্রিস কোলম্যান ও একজন সহকারী৪০,০০,০০০ (প্রায়)১৫,০০,০০০ – ২০,০০,০০০নিজস্ব সহকারী রাখা বাধ্যতামূলক করেছেন।
থমাস ডুলি / স্টর্কতুলনামূলক সাশ্রয়ী১৫,০০,০০০ – ২০,০০,০০০দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে তালিকায় রয়েছেন।

কোলম্যানের শর্ত ও বাফুফের পরিকল্পনা

ওয়েলস জাতীয় দলের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান, যিনি গ্যারেথ বেলের মতো তারকাদের কোচিং করিয়েছেন, তিনি এখন হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়াদের দায়িত্ব নেওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। কোলম্যান তাঁর সম্পূর্ণ কোচিং স্টাফসহ আসতে চাইলে খরচ প্রতি মাসে ৭০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে আলোচনার এক পর্যায়ে জানা গেছে, তিনি ফিটনেস ট্রেইনার বা গোলরক্ষক কোচ সাথে আনার বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা দেননি। কিন্তু তিনি তাঁর নিজস্ব একজন সহকারী কোচকে সাথে রাখতে চান। সে ক্ষেত্রে কোলম্যান ও তাঁর সহকারীর পেছনে বাফুফের মাসিক ব্যয় হবে প্রায় ৪০ লাখ টাকা।

দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাফুফে বর্তমানে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বেশি বেতন দিতে সক্ষম নয়। এই বিশাল আর্থিক ব্যবধান ঘোচাতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সাথে বৈঠকে বসবেন তাবিথ আউয়াল। মন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার ইতিবাচক আশ্বাস পেলে আজই কোলম্যানের নাম নতুন কোচ হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। তবে কোলম্যানের ব্যাপারে নেতিবাচক বার্তা এলে বাফুফে তাদের বিকল্প তালিকায় থাকা থমাস ডুলি কিংবা স্টর্কের মতো কোচদের দিকে নজর দেবে।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ

বাফুফে এখনই কোলম্যানের সাথে আলোচনার দ্বার বন্ধ করতে আগ্রহী নয়, কারণ বিশ্ব ফুটবলের এই মাপের একজন কোচ বাংলাদেশে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন—একে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে ফেডারেশন। কোলম্যানের কাছ থেকে ইতিমধ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে। যদি আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা যায়, তবে কোলম্যানের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের ফুটবলের কৌশল ও মানে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আজকের বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে জাতীয় দলের পরবর্তী কোচ কে হচ্ছেন এবং কোন পথে এগোবে দেশের ফুটবল।