একসময় বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোনালি বেন্দ্রে এবং তার স্বামী চলচ্চিত্র প্রযোজক গোল্ডি বহেলের বিরুদ্ধে ভারতের পুনে জেলার মাভাল এলাকায় একটি জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত জালিয়াতি ও নিয়ম লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষক চন্দ্রকান্ত শিন্ডে এই অভিযোগ এনে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। ঘটনাটি বর্তমানে পুনের ভাদগাঁও মাভাল দেওয়ানি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৩০ গুণ্ঠা বা প্রায় ৩২ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি জমি ঘিরে এই বিরোধের সূত্রপাত। চাষি চন্দ্রকান্ত শিন্ডের দাবি, তাঁর পরিবার ১৯৫৭ সাল থেকে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির বৈধ মালিকানা ও ভোগদখলে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গোল্ডি বহেল অবৈধভাবে সেই মালিকানা হস্তান্তর করে নিজের নামে নথিভুক্ত করেছেন এবং পরবর্তীতে সেখানে উন্নয়ন বা নির্মাণ কাজ চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, জমিটি দখলের সময় স্থানীয় কৃষক পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং তাদের জমির ওপর অধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করা হয়। বিষয়টি প্রথমে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তোলা হলেও সন্তোষজনক সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে, সোনালি বেন্দ্রে এবং তার স্বামী গোল্ডি বহেলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, জমি সংক্রান্ত সরকারি নথি বা রেকর্ডে সোনালি বেন্দ্রের কোনো নাম নেই এবং তিনি এই সম্পত্তি লেনদেনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন।
আইনজীবী আরও জানান, অভিযোগকারী কৃষক এর আগে তহশিলদার এবং মহকুমা শাসকের দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেছিলেন, তবে প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রতিবারই তাঁর দাবি খারিজ হয়ে যায়। ফলে মামলাটি আইনগতভাবে দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলে তাদের দাবি।
বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন এবং আগামী ২০ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শোনার পর আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে জমির মালিকানা, নথিপত্র যাচাই এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
মামলার বর্তমান অবস্থা ও প্রধান অভিযোগসমূহ
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| জমির পরিমাণ | প্রায় ৩০ গুণ্ঠা (প্রায় ৩২,০০০ বর্গফুট) |
| অবস্থান | মাভাল, পুনে জেলা |
| অভিযোগকারী | চন্দ্রকান্ত শিন্ডে (স্থানীয় কৃষক) |
| অভিযুক্ত | সোনালি বেন্দ্রে, গোল্ডি বহেল ও আরও দুইজন |
| প্রধান অভিযোগ | জমি জালিয়াতি, অবৈধ দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শন |
| দাবিকৃত মালিকানা ইতিহাস | ১৯৫৭ সাল থেকে পারিবারিক অধিকার |
| বর্তমান অবস্থা | ভাদগাঁও মাভাল দেওয়ানি আদালতে বিচারাধীন |
| পরবর্তী শুনানি | ২০ এপ্রিল |
এই মামলার ফলাফল শুধু সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্যই নয়, বরং স্থানীয় জমি ব্যবস্থাপনা ও মালিকানা নথির স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
