রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক ২০২৫ সালে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, এ বছরে ব্যাংকটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩,৯৩১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি।
এই লোকসান বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকটির সামগ্রিক আর্থিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে। বিশেষ করে সম্পদের মান ও দায়ের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
আর্থিক বিবরণীতে দেখা যায়, ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ঋণাত্মক অবস্থায় নেমে এসেছে, যা ১০৮.৫১ টাকা ঋণাত্মক। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৬৯.৯০ টাকা, যা ব্যাংকের মূলধন কাঠামোর ওপর চাপের ইঙ্গিত বহন করে।
লোকসানের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সুদ আয়ের বড় ধরনের ঘাটতি। ২০২৫ সালে ব্যাংকটির নিট সুদ আয় দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৫,৯০৩ কোটি টাকা, যা ব্যাংকের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করেছে।
একই সঙ্গে খেলাপি বা শ্রেণিবদ্ধ ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরের শেষে শ্রেণিবদ্ধ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭২,৮০০ কোটি টাকা। এই উচ্চমাত্রার অনাদায়ী ঋণ ব্যাংকের আয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে এবং ঝুঁকির পরিমাণ বাড়িয়েছে।
ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার প্রধান সূচকগুলো নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| সূচক | ২০২৫ সালের তথ্য |
|---|---|
| নিট লোকসান | ৩,৯৩১ কোটি টাকা |
| লোকসান বৃদ্ধির হার | ২৮ শতাংশ |
| নিট সুদ আয় | ঋণাত্মক ৫,৯০৩ কোটি টাকা |
| শ্রেণিবদ্ধ ঋণ | ৭২,৮০০ কোটি টাকা |
| শেয়ারপ্রতি লোকসান | ১৬৯.৯০ টাকা |
| শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য | ঋণাত্মক ১০৮.৫১ টাকা |
নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সুদ আয়ের নেতিবাচক অবস্থান এবং শ্রেণিবদ্ধ ঋণের উচ্চ পরিমাণ ব্যাংকটির আর্থিক ভারসাম্য নষ্ট করেছে। পাশাপাশি ঋণ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং অনাদায়ী ঋণের বৃদ্ধি সামগ্রিক আর্থিক ফলাফলে নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
এই পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকটির মূলধন ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সম্পদের গুণগত মানেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। শেয়ারপ্রতি লোকসান বৃদ্ধি এবং নিট সম্পদমূল্যের ঋণাত্মক অবস্থান ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে, যা নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর তথ্য থেকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
