ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন । চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ সন্দেহাতিত ভাবে প্রমানিত হওয়ায় প্রাইভেট শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত।
বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ মো. মশিউর রহমান খান সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন।
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন

জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণীতে পড়াশুনা করেন ভিকটিম। আসামি আব্দুল লতিফ তার বসত ঘরে বসে প্রাইভেট পড়ায়। ওই ছাত্রী ২০১৬ সালের ৭ মার্চ আসামির বসত ঘরে প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট পড়ে রাত বেশী হলে ওই বাড়িতে লতিফের ঘরের চৌকির উপর ঘুমায়। রাত ১১টার সময় আবদুল লতিফ জোর পূর্বক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে স্কুল ছাত্রী রক্তাক্ত জখম হয়।
আরো জানা যায়, আসামি আব্দুল লতিফ স্কুল ছাত্রীর মাকে ফোন করে জানায় তার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ। মেয়ের মা ওই রাতে আসামির বাড়িতে এসে মেয়েকে অসুস্থ দেখে প্রথমে পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করায়। স্কুল ছাত্রীর অবস্থা গুরুতর দেখে ওই হাসপাতালের ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ ওই ট্রাইব্যুনালে মামলা করে। পাথরঘাটা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এইচ এম সিদ্দিকুর রহমান তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩০ মে আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দালিখ করেন।
রায় ঘোষনার পরে স্কুল ছাত্রীর মা রুবি বেগম বলেন, আমার মেয়েকে প্রাইভেট শিক্ষক আব্দুল লতিফ জোর পূর্বক ধর্ষণ করেছে। আবদুল লতিফের মত চরিত্রহীন শিক্ষক যেন এ দেশে আর জম্ম না হয়। তিনি শিক্ষিক সমাজের কলংক। এই মামলায় মোট ৬জন সাক্ষ্য দেয়।

রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছেন, বিশেষ পিপি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, একটি সুন্দর রায় হয়েছে। সমস্ত শিক্ষকের নিকট এই ম্যাসেজ পৌছলে শিক্ষকরা সতর্ক হবেন।
আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন মো. আব্দুল মোতালেব মিয়া। তিনি বলেন এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
