চার হাজার প্রাণনাশের হুমকিতে সাবেক তারকা

চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে–অফের প্রথম লেগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র–কে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ম্যাচ–পরবর্তী তদন্তে অভিযুক্ত জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি–কে এক ম্যাচের জন্য অস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করে উয়েফা। আপিল করেও শাস্তি থেকে রেহাই পাননি বেনফিকা–র এই আর্জেন্টাইন উইঙ্গার। ফলে ফিরতি লেগে মাঠে নামতে না পেরে দর্শকসারিতেই থাকতে হয় তাঁকে।

ঘটনাটি ঘিরে এবার নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছেন ওয়েসলি স্নেইডাররিয়াল মাদ্রিদইন্টার মিলান–এর সাবেক এই ডাচ তারকা বর্তমানে নেদারল্যান্ডসে টেলিভিশন বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রেস্তিয়ান্নির আচরণের কঠোর সমালোচনা করার পর আর্জেন্টিনা থেকে প্রায় চার হাজার প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।

স্নেইডার বলেন, “এটি অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতি। গত সপ্তাহে আর্জেন্টিনা থেকে চার হাজারের মতো মৃত্যুহুমকি পেয়েছি। প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকার আছে। যারা আমাকে হুমকি দিচ্ছে, তাদেরও মত আছে। তবে আমি যা দেখেছি, তার ভিত্তিতেই আমার অবস্থান জানিয়েছি।”

তিনি মূলত মাঠের একটি দৃশ্যের সমালোচনা করেছিলেন, যেখানে প্রেস্তিয়ান্নিকে মুখ ঢেকে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। স্নেইডারের মন্তব্য ছিল, “তুমি যদি কিছু বলতে চাও, অন্তত মুখ না ঢেকে বলো। কালো মানুষকে ‘বানর’ বলে ডাকা অত্যন্ত নিন্দনীয়।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, প্রেস্তিয়ান্নির দলে থাকা কৃষ্ণাঙ্গ সতীর্থরা এ বিষয়ে কী ভাবছেন।

ঘটনার সূত্রপাত প্লে–অফ প্রথম লেগে রিয়াল–বেনফিকা ম্যাচে। রিয়ালের ১–০ গোলের জয়ের পর কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে উদ্‌যাপনের সময় ভিনিসিয়ুস ও প্রেস্তিয়ান্নির মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে ভিনিসিয়ুস সতীর্থদের জানান, তাঁকে ‘বানর’ বলা হয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে দাবি করেন, ওই শব্দটি একাধিকবার উচ্চারণ করা হয়েছে।

ইউরোপীয় ফুটবলে বর্ণবাদবিরোধী অবস্থান দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ঘটনায় কড়া তদন্ত ও শাস্তির নজির রয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো—

বিষয়বিবরণ
ম্যাচরিয়াল মাদ্রিদ বনাম বেনফিকা
প্রতিযোগিতাচ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে–অফ, প্রথম লেগ
অভিযোগভিনিসিয়ুসকে বর্ণবাদী মন্তব্য
অভিযুক্তজিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি
সিদ্ধান্তএক ম্যাচ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
নতুন বিতর্কস্নেইডারের বিরুদ্ধে ৪,০০০ প্রাণনাশের হুমকি

বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের ভেতরের আচরণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মাঠের বাইরের প্রতিক্রিয়াও সমান তাৎপর্যপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্র প্রতিক্রিয়া ও প্রাণনাশের হুমকি কেবল ব্যক্তিকে নয়, পুরো ক্রীড়াজগতের পরিবেশকেই কলুষিত করে।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো, বর্ণবাদবিরোধী লড়াই এখনো শেষ হয়নি। ফুটবল কর্তৃপক্ষ, ক্লাব ও খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সমর্থকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। নইলে মাঠের একটি মন্তব্য অনলাইন সহিংসতায় রূপ নিয়ে বৃহত্তর সংকটে পরিণত হতে পারে।