যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে রোমান জুটমিলের মালিক মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে কেউ হতাহত না হলেও বাড়িতে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন অভয়নগর আর্মি ক্যাম্পের সদস্য এবং অভয়নগর থানার পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত মোহাম্মদ আলীর ছেলে রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্র তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করছিল। চাঁদা না দেওয়ায় ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। বিস্ফোরণের সময় বাড়িতে কেউ উপস্থিত না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
মোহাম্মদ আলীর ভাইপো মোহাম্মদ সজীব বলেন, “গভীর রাতে একটি বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বের হয়ে দেখেছি বাড়ির ভেতর ধোঁয়া উঠছে। প্রথমে কিছুই বোঝা যায়নি।” বাড়িতে মোহাম্মদ আলী ঢাকায় থাকায় কোনো সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে জালের কাঠি, লালটেপসহ বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করে।
অভয়নগর থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম জানান, “একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাত ২টার দিকে বিস্ফোরণের খবর আসে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ককটেল বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
বিস্ফোরণ সম্পর্কিত তথ্য
| ক্রমিক | বিষয় | বিবরণ |
|---|---|---|
| ১ | সময় ও তারিখ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ২টা |
| ২ | স্থান | নওয়াপাড়া, অভয়নগর, যশোর |
| ৩ | প্রভাবিত ব্যক্তি | মোহাম্মদ আলী (রোমান জুটমিলের মালিক) ও পরিবার |
| ৪ | হতাহত | কেউ আহত হয়নি |
| ৫ | উদ্ধারকৃত সামগ্রী | জালের কাঠি, লালটেপ, বিস্ফোরণের আলামত |
| ৬ | সংশ্লিষ্ট সংস্থা | অভয়নগর আর্মি ক্যাম্প, অভয়নগর থানা পুলিশ |
| ৭ | হামলার উদ্দেশ্য | চাঁদা না দেওয়ায় ভয় প্রদর্শন |
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং নিরাপত্তা জোরদারের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। সম্প্রতি যশোরে চাঁদা না দেওয়ায় হামলার ঘটনা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের সরঞ্জামগুলি সাধারণভাবে সহজলভ্য ককটেল জাতীয় সামগ্রী ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত শনাক্তের চেষ্টা করছে।
বাড়ি মালিক ও স্থানীয়রা আশা করছেন, নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা যায়।
