বিশ্বসঙ্গীতে সালসার অসাধারণ জনপ্রিয়তা ও প্রভাব বিস্তারকারী কিংবদন্তি শিল্পী উইলি কোলন আর নেই। ৭৫ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ম্যানেজার পিয়েত্রো কার্লোস ফেসবুকে শোকসংবাদের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, “উইলি শুধু সালসা পরিবর্তন করেননি; তিনি এটিকে বৈচিত্র্যময় ও বিস্তৃত করেছেন, রাজনৈতিক বার্তা এবং শহুরে জীবনের গল্পে সমৃদ্ধ করেছেন, এমনকি এমন মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন, যেখানে আগে সালসা পৌঁছাতে পারে না।”
উইলিয়াম অ্যান্থনি কোলন, যিনি সবাইকে উইলি কোলন নামে চিনতেন, নিউইয়র্কের দক্ষিণ ব্রঙ্কসে পুয়ের্তো রিকান অভিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কঠিন পরিবেশে বড় হওয়া এই শহর তাঁকে শৈশব থেকেই সংগীত ও লড়াইয়ের শিক্ষা দিয়েছে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে কোলন ফানিয়া রেকর্ডসে চুক্তিবদ্ধ হন, যেখানে প্রতিষ্ঠাতা জনি পাচেকো ও জেরি মাসুচি তাঁর প্রতিভা দ্রুত চিহ্নিত করেন।
চার দশককে অতিক্রম করা কোলনের সঙ্গীত যাত্রা ছিল বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ। তিনি ৪০টিরও বেশি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিয়মিত মঞ্চে পারফর্ম করে গেছেন। তাঁর সঙ্গীত শুধুমাত্র বিনোদনই নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তাও বহন করত।
উইলি কোলনের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ
| সাল | অর্জন |
|---|---|
| ২০০০ | ইন্টারন্যাশনাল ল্যাটিন মিউজিক হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত |
| ২০০৪ | দ্য ল্যাটিন রেকর্ডিং একাডেমি থেকে আজীবন সম্মাননা |
| ২০১৫ | বিলবোর্ডের সর্বকালের ৩০ জন প্রভাবশালী লাতিন শিল্পীর মধ্যে স্বীকৃতি |
| ২০১৯ | ল্যাটিন সংরাইটার্স হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত |
উইলির ঝুলিতে ৩০ মিলিয়নের বেশি অ্যালবাম বিক্রি, একাধিক প্লাটিনাম রেকর্ড এবং ১১টি গ্র্যামি ও ল্যাটিন গ্র্যামি মনোনয়ন ছিল। এমন বিশাল সাফল্যের কারণে কোলনকে সর্বকালের অন্যতম সফল সালসাশিল্পী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দক্ষিণ ব্রঙ্কসের সংগ্রামময় জীবন থেকে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন—এই দীর্ঘ যাত্রা নিয়ে কোলন একবার বলেছিলেন, “আমি শুধু সংগীত নিয়েই ভাবতাম।” তাঁর অমর সুর, মঞ্চের আবেগ এবং শিল্পীর ভক্তিপূর্ণ মনোভাব আজও সালসা প্রেমীদের মনে চিরদিন বেঁচে থাকবে।
উইলি কোলনের প্রস্থান শুধু একটি শিল্পীর মৃত্যু নয়; এটি সালসা সঙ্গীতের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি। তাঁর অবদান ও সৃষ্টি আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
