জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুলাই ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় চর দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে মেঘনা থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রাম থেকে তাদের আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মাইনুদ্দিন (৪০), মো. হান্নান (২৬), কাশেম বেপারী (৬০) ও মো. রানা (২১)। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেঘনা উপজেলার চর বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে একটি চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়ভাবে এ সংঘর্ষ টেঁটাযুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। দুই পক্ষের লোকজন টেঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে মেঘনা উপজেলার চর বিনোদপুর গ্রামের কুহিনূর আক্তার (৩৮) গলায় টেঁটাবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, একটি চর দখলকে কেন্দ্র করে মেঘনা উপজেলার চর বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় চর বিনোদপুর গ্রামের কুহিনূর আক্তার টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর রোববার রাতেই পুলিশ অভিযান চালায়। ওই অভিযানে তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রাম থেকে চারজনকে আটক করা হয়। সংঘর্ষে আর কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, কিংবা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, থানায় এখনো এজাহার জমা পড়েনি। তবে নিহতের স্বজনেরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে তিনি শুনেছেন।
এদিকে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিতাস উপজেলার চরভাটেরা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিতাস থানার ওসি মমিরুল হক জানান, ওই এলাকায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
মেঘনা থানা এলাকার সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
চর দখলকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একজনের প্রাণহানি স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে টেঁটা ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের কারণে এ ধরনের বিরোধ দ্রুত প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং নিহত নারীর মৃত্যুর সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।
মন্তব্য