চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বাসের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নেমে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের চাপা দিয়েছে একটি দ্রুতগতির লরি। এতে ছয় বছর বয়সী এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। সোমবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার কুমিরা রয়েল গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে নেত্রকোনার ছয় বছর বয়সী শিশু ইব্রাহিম ও স্বপ্না নামের এক নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় আহত ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ জানায়, বাসটি চট্টগ্রাম থেকে যাত্রী নিয়ে নেত্রকোনার উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় পৌঁছালে বাসটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ কারণে বাসটি থামাতে হয়। পরে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে সড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন।
এ সময় দ্রুতগতির একটি লরি এসে তাঁদের চাপা দেয়। আকস্মিক এ ঘটনায় কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এতে দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে।
ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে দুর্ঘটনায় জড়িত লরিটির চালক সম্পর্কে কিংবা সংঘর্ষের পর চালক কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানা যায়নি।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ তাঁদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিচয় শনাক্ত করা গেলে নিহতদের স্বজনদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছানো সহজ হবে।
মহাসড়কে যানবাহন বিকল হয়ে পড়লে যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে রাতে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষকে দূর থেকে শনাক্ত করা চালকদের জন্য কঠিন হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সতর্কতা অবলম্বন এবং চলন্ত যানবাহন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কুমিরা রয়েল গেট এলাকায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, লরিটির গতি কিংবা চালকের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
একটি বাসের যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পাঁচজনের প্রাণহানি ও ছয়জনের আহত হওয়ার ঘটনা সড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।









