কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৮০ জনকে আটক ও গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) থেকে রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম রেঞ্জের বিভিন্ন জেলায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ১১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক মামলায় ৬৯ জন এবং নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় ৪৫ জন রয়েছেন। মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার আসামি, পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত মামলায় ৮৬ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৮৩ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ৪৪ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ৪৯ জন, পরোয়ানামূলে ৯৬ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব গ্রেফতারসহ ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ৮০ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানেও উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩৩ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ৬ হাজার ৯০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা হয়েছে ৩৬টি মামলা।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে ১১ হাজার ৩০১টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৬ কেজি ৯৩৭ গ্রাম গাঁজা, ৮২ লিটার ৪০০ মিলিলিটার চোলাই মদ, ২৫০ মিলিলিটার বিদেশি মদ, পাঁচ বোতল স্কাফ সিরাপ এবং ১০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। উদ্ধার হওয়া এসব মাদকদ্রব্যের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে অভিযানে আওয়ামী লীগের ২৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে তিনজন, কক্সবাজারে একজন, কুমিল্লায় সাতজন, নোয়াখালীতে ১০ জন, রাঙামাটিতে একজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।
বিশেষ অভিযানের বড় একটি অংশ ছিল কিশোর গ্যাংবিরোধী কার্যক্রম। এ অভিযানে মোট ৭২৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৬৩১ জনকে মুচলেকায় জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ৯২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে। নোয়াখালীতে আটক করা হয়েছে ১৭০ জনকে। এ ছাড়া চাঁদপুরে ১১৯ জন, লক্ষ্মীপুরে ৪৭ জন, খাগড়াছড়িতে ৪৩ জন, কক্সবাজারে ৩৬ জন, ফেনীতে ২৯ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৭ জন এবং রাঙামাটিতে নয়জনকে আটক করা হয়েছে।
কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধে কিশোরদের জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি পরিবার ও সামাজিক পর্যায়েও সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ জানিয়েছে, জনস্বার্থে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক, কিশোর গ্যাং এবং অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরোয়ানাভুক্ত ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেফতারেও অভিযান চলবে।









