চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ছয় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তাদের অনুসারীরা হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ চালিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বড় সাজ্জাদ, ছোট সাজ্জাদ, রায়হান আলম, মোবারক হোসেন ইমন, শহিদুল ইসলাম বুইস্যা এবং ইসমাইল হোসেন টেম্পু এই অপরাধ চক্রের মূল সদস্য হিসেবে পুলিশের নজরে রয়েছে।
গত ১৩ মাসে রাজনৈতিক বিরোধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। বড় সাজ্জাদ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করলেও চট্টগ্রামে তার বাহিনী পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে। ছোট সাজ্জাদ কারাগারে থাকলেও তার অনুসারীরা সক্রিয়ভাবে অপরাধ চালাচ্ছে। রায়হান আলম ও মোবারক হোসেন ইমন বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই এবং সশস্ত্র অপকর্মে জড়িত। শহিদুল ইসলাম বুইস্যা এবং ইসমাইল হোসেন টেম্পুও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত।
পুলিশ জানায়, এই সন্ত্রাসীরা মূলত পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে থেকে রাতের আঁধারে হত্যাকাণ্ড এবং ডাকাতি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। অপরাধীদের লক্ষ্যভেদ করার জন্য পুলিশ বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের অংশ হিসেবে শহর ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপরাধীদের ধরা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তাঘাটে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং গ্রামে গ্রামে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পাশাপাশি পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে যাতে অপরাধী চক্র ধ্বংস করা যায়।
জনগণ আশা করছে, অভিযানের মাধ্যমে চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধ করা সম্ভব হবে এবং শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।
টিএসএন
