ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছে ছাত্র-জনতা পরিচয় দেওয়া একদল তরুণ। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে খুলশী এলাকায় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করে তারা। খবর পেয়ে নগর পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১০টার দিকে মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন, ১২ ডিসেম্বর, ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গুলি করে তাঁকে লক্ষ্য করা হয়। আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী বক্তব্যের কারণে হাদি সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, হাদির মৃত্যুসংবাদ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর রাত পৌনে ১১টার দিকে ছাত্র-জনতা পরিচয় দেওয়া প্রায় ২০–২৫ জন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তাঁরা হাদির হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগ-বিরোধী এবং ভারতবিরোধী স্লোগান দেন।
অবস্থানকারীদের একজন, মোহাম্মদ তানভীর, জানান,
“আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী বক্তব্যের কারণে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ভারতে বসে হাদির ওপর হামলার ষড়যন্ত্র করেছে। তাকে টার্গেট করা হয়েছে।”
ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেন। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিন আলম প্রথম আলোকে বলেন,
“১৫–২০ জন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু লোক আসতে পারে বলে খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।”
এই ঘটনার মাধ্যমে হাদির হত্যার প্রতিবাদে স্থানীয় তরুণ সমাজের প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এমন অবস্থান রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তথ্য-উপাত্তের সংক্ষিপ্ত টেবিল:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিবাদকারীদের পরিচয় | ছাত্র-জনতা পরিচয় দেওয়া তরুণরা |
| অবস্থান স্থান | ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন, খুলশী, চট্টগ্রাম |
| তারিখ ও সময় | ১৮ ডিসেম্বর, রাত পৌনে ১১টা |
| সংখ্যাগরিষ্ঠ | ২০–২৫ জন |
| হাদির মৃত্যু | সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১০টা |
| হত্যাকাণ্ডের তারিখ | ১২ ডিসেম্বর, ঢাকার পুরানা পল্টন, বক্স কালভার্ট রোড |
| পুলিশের ভূমিকা | উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিবাদকারীদের সরানো |
| স্লোগান | আওয়ামী লীগ-বিরোধী, ভারতবিরোধী স্লোগান |
| স্থানীয় কর্মকর্তা | খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিন আলম |