চট্টগ্রামের অক্সিজেন শিল্প এলাকায় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে একটি বয়লার কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে ১১ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। এই বয়লার কক্ষে তরলজাত পণ্যের জন্য বোতল প্রস্তুত করার কাজ চলছিল। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা অপ্রতুল থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, খবর পেয়ে নগরের বায়েজিদ এবং কালুরঘাট ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটি এবং সঠিক সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকার কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জরুরি।”
কারখানা কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় আহত শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করা হয় এবং তাদের কারখানার নিজস্ব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে ৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ৩ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। আহতদের মধ্যে একাধিকের দগ্ধের মাত্রা তীব্র হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।
এ দুর্ঘটনার ফলে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুনরায় বিস্ফোরণ রোধে সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
নিম্নে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | আহত শ্রমিক সংখ্যা | চিকিৎসার ধরন | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|
| ১ | ৮ | প্রাথমিক চিকিৎসা | বাড়ি ফেরা |
| ২ | ৩ | হাসপাতালে ভর্তি | চিকিৎসাধীন |
| মোট | ১১ | – | – |
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ পুরো এলাকায় শোনা যায়। আশেপাশের কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষ এই ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় ঘটার সম্ভাবনা রোধে জরুরি তদারকি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চট্টগ্রামে শিল্প কারখানার নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও শিল্প মালিকদের মধ্যে সমন্বিত তদারকি ও শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
