চট্টগ্রামে ইয়াবা সংক্রান্ত এক বড় ধরনের ঘটনায় ৮ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের নির্দেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইয়াবা উদ্ধার সত্ত্বেও আসামিকে ছেড়ে দেওয়া এবং উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য আত্মসাৎ করা।
পূর্বপ্রসঙ্গ হিসেবে জানা গেছে, গত ৮ ডিসেম্বর রাতে নগরের নতুনব্রিজ এলাকায় একটি তল্লাশিচৌকিতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলসের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল মো. ইমতিয়াজ হোসেনের সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে আনুমানিক ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে মাদকদ্রব্যটি আত্মসাৎ করেন। এরপর রাত প্রায় সাড়ে তিনটার দিকে কনস্টেবল ইমতিয়াজকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরপর, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন মাহমুদ স্বপ্রণোদিত হয়ে ২৩ ডিসেম্বর মামলা করেন। একই সঙ্গে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) ৫ জানুয়ারির মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
নগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকদ্রব্য আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করা এবং বৈধ আদেশ অমান্য করার অভিযোগে পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি) বিধি-৮৮০ অনুযায়ী এই বরখাস্ত কার্যকর করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ইমতিয়াজ হোসেন কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার কয়েকজনের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ইয়াবা বহনের জন্য সম্মত হয়েছেন। কোনো ছুটি না নিয়ে তিনি ইয়াবাভর্তি লাগেজ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পরে নতুনব্রিজ এলাকায় তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া এবং সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সকল বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্যের আত্মসাতের সাথে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্যদের তালিকা :
| ক্র. | পদবী | নাম | বর্তমান কর্মস্থল |
|---|---|---|---|
| ১ | এসআই | মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার | বাকলিয়া থানা |
| ২ | এসআই | মোহাম্মদ আমির হোসেন | কোতোয়ালি থানা |
| ৩ | এএসআই | সাইফুল আলম | বাকলিয়া থানা |
| ৪ | এএসআই | মো. জিয়াউর রহমান | বাকলিয়া থানা |
| ৫ | এএসআই | মো. সাদ্দাম হোসেন | বাকলিয়া থানা |
| ৬ | এএসআই | এনামুল হক | বাকলিয়া থানা |
| ৭ | কনস্টেবল | মো. রাশেদুল হাসান ভূঞা | বাকলিয়া থানা |
| ৮ | নারী কনস্টেবল | উম্মে হাবিবা | বাকলিয়া থানা |
এ ঘটনায় নগর পুলিশের পক্ষ থেকে আরও তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি ক্রমশ স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সততার গুরুত্ব এবং দায়িত্বশীলতার অনুশীলনের গুরুত্ব একবার আরও প্রমাণিত হলো।
