গ্রেপ্তার ইমরান খান। পাকিস্তানের ইসলামাবাদের একটি আদালত শনিবার (৫ আগস্ট) পিটিআই প্রধান ইমরান খানকে তোশাখানা মামলায় দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করে তিন বছরের সাজা দেয়ার ঘোষণার পরই লাহোরে জামান পার্কস্থ বাসা থেকে পাঞ্জাব পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তিন মাসের মধ্যে শনিবার ইমরান খান দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তার হলেন। এর আগে গত ৯ মে তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছিল। সেসময় সেনা সদর দফতরও হামলার শিকার হয়েছিল।
শনিবার (৫ আগস্ট) ইসলামাবাদ আদালতে শুনানিকালে অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ হুমায়ুন দেলওয়ার রায় দেন যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ‘ইমরান খান পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভূয়া তথ্য পেশ করেছেন এবং দুর্নীতির জন্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তিনি নির্বাচনী আইনের ১৭৪ ধারা অনুযায়ি পিটিআই প্রধানকে তিন বছরের সাজা প্রদান করেন।। ইসলামাবাদ আদালত একই সঙ্গে ইমরান খানকে এক লাখ রুপি জরিমানা করেছেন।
গ্রেপ্তার ইমরান খান
অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালতের আদেশ কার্যকর করার জন্যে রায়ের একটি কপি ইসলামাবাদ পুলিশ প্রধানের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
শনিবারের শুনানির আগে আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। আদালত কক্ষে কেবলমাত্র আইনজীবিদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। তবে সকাল সাড়ে ৮ শুনানি শুরুর সময় ইমরান খানের আইনজীবিরা উপস্থিত না থাকায় বার বার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। জজ কয়েকবার সময় দেন ইমরানের আইনজীবিদের হাজির হওয়ার জন্যে। পরবর্তীতে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে রায় ঘোষণা করেন।

ইমরানের বিরুদ্ধে তোশাখানার মামলাটি করে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন। এ মামলায় ইমরানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় পাওয়া উপহার রাষ্ট্রীয় তোশাখানায় জমা না দিয়ে বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইমরান খান বুধবার(২ আগস্ট) বিবিসি হার্ডটক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন নিয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ‘প্রচণ্ড ভীত’ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান ‘অঘোষিত সামরিক আইনে’ চলছে এবং অভিযোগ করেন যে ‘ফ্যাসিবাদীরা’ একে ‘অন্ধকার যুগের’ দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

২০১৮ সালে ইমরান খান নির্বাচিত হবার পর চার বছরেরও কম সময় ক্ষমতায় ছিলেন। সংসদীয় অনাস্থা ভোটে গত বছর তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনই কেবল স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।হার্ডটক উপস্থাপক স্টিফেন স্যাকার সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন, সামরিক বাহিনীর সাথে সম্পর্ক শীতল হওয়ার পর থেকেই কি রাজনীতিতে ‘সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ’ নিয়ে তার সমালোচনা শুরু হয়েছে?অভিযোগ অস্বীকার করে পিটিআই বলেছিলেন, “তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পাকিস্তানের একমাত্র দল যেটি সামরিক একনায়কদের দ্বারা তৈরি হয়নি”। আর এ কারণেই দলটি ভেঙ্গে দিতে তারা তৎপর হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।