সিঙ্গাপুরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো একটি ‘গুরুতর’ সাইবার হামলার কবলে পড়েছে। শুক্রবার রাতে এক বক্তব্যে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয় মন্ত্রী কে. শানমুগম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রী জানান, এটি একটি উন্নত ও জটিল সাইবার আক্রমণ, যা অ্যাডভান্সড পারসিস্টেন্ট থ্রেট (এপিটি) হিসেবে পরিচিত। এই হামলা এখনও চলমান এবং এটি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার ওপর হুমকি সৃষ্টি করছে। হামলাটি “ইউএনসি৩৮৮৬” নামক একটি হ্যাকার গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যাদের সঙ্গে চীনের সংযোগ রয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গুগলের মালিকানাধীন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ম্যান্ডিয়্যান্ট গ্রুপটিকে একটি চীনা সংশ্লিষ্ট গুপ্তচরবৃত্তিমূলক চক্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শানমুগম বলেন, এই হ্যাকাররা এখনও সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য, টেলিকম, বিদ্যুৎ, পানি ও পরিবহণ ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সিঙ্গাপুরের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা (সিএসএ) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই ধরনের হামলা সফল হলে দেশব্যাপী গুপ্তচরবৃত্তি চালানো, জরুরি সেবা অচল করে দেওয়া এবং ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।”
শানমুগম বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় আঘাত লাগলে হাসপাতাল, গণপরিবহন, ব্যাংক, বিমানবন্দর ও শিল্প খাত সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা পুরো অর্থনীতিকে বিপন্ন করতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরে সন্দেহভাজন এপিটি হামলার সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে দেশটির একটি সরকারি স্বাস্থ্যখাতে সাইবার হামলায় ১ লাখ ৬০ হাজার রোগীর তথ্য চুরি হয়েছিল, যার মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং-এর তথ্যও ছিল।
মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান টেনএবল-এর সিনিয়র রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ার সাতনাম নারাং মন্তব্য করেন, “রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এপিটি হ্যাকাররা যেভাবে অবকাঠামো টার্গেট করছে, তা গোটা বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।”
তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের ছায়ার আড়ালে থাকা প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ আধুনিক সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা ক্রমেই আরও জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে।”
